Dhaka ১২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কার ছাড়াই ২০বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১২:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
  • 2
বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের মগনামা জেটি ২০ বছরেও নেই কোনো সংস্কার। যদিও জেটি দিয়ে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও সংস্কার বা উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার লক্ষাধিক মানুষের। পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটিঘাট দীর্ঘ দুই দশক ধরে অবহেলিত। সংস্কারের অভাবে ঘাটটি দিনদিন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঘাট ব্যবহার করছেন কুতুবদিয়ার লক্ষাধিকের বেশি মানুষ। স্থানীয়দের মতে, যে কোনো মুহূর্তে জেটিটি ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে কক্সবাজারের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের জন্য পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে এই জেটি নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এর সম্প্রসারণ করে ২০০ গজ দীর্ঘ একটি সরু ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, যার চারপাশে ছিল নিরাপত্তা রেলিং। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কংক্রিট উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, জেটি দিয়ে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও সংস্কার বা উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জেটিটির অবস্থা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
কুতুবদিয়ার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, মগনামা ঘাট কুতুবদিয়া থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র সহজপথ। কিন্তু এখন ঘাটের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। প্ল্যাটফর্মের পিলারগুলো নড়বড়ে, রেলিং ভেঙে যাওয়ায় যাত্রীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম বলেন, ২০ বছর আগে জেটি নির্মাণ হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। এই অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন আধুনিকায়ন করে দীপ বাসী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে।
মগনামা লঞ্চঘাটে টোল আদায়ে নিয়োজিত এক কর্মী বলেন, সংস্কারের দাবিতে বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। সামুদ্রিক মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের কারণে মিনি ট্রাকের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করাও যাচ্ছে না। এছাড়াও ইমার্জেন্সি রুগী পারাপার হতে মাঝে মাঝে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলার ইউএনও মঈনুল হোসেন চৌধুরী জানান, সম্প্রতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক নিজে এসে ঘাটটি পরিদর্শন করেছেন। জেটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই আপাতত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে নতুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ঘাট নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দীর্ঘ ২০বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় কুতুবদিয়ার তিন লক্ষাধিক মানুষ এই জেটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। অবিলম্বে জেটি সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং দ্বীপবাসীর সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।
ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

সংস্কার ছাড়াই ২০বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে

আপডেট এর সময় : ১২:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের মগনামা জেটি ২০ বছরেও নেই কোনো সংস্কার। যদিও জেটি দিয়ে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও সংস্কার বা উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার লক্ষাধিক মানুষের। পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটিঘাট দীর্ঘ দুই দশক ধরে অবহেলিত। সংস্কারের অভাবে ঘাটটি দিনদিন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঘাট ব্যবহার করছেন কুতুবদিয়ার লক্ষাধিকের বেশি মানুষ। স্থানীয়দের মতে, যে কোনো মুহূর্তে জেটিটি ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে কক্সবাজারের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের জন্য পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে এই জেটি নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এর সম্প্রসারণ করে ২০০ গজ দীর্ঘ একটি সরু ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, যার চারপাশে ছিল নিরাপত্তা রেলিং। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কংক্রিট উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, জেটি দিয়ে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও সংস্কার বা উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জেটিটির অবস্থা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
কুতুবদিয়ার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, মগনামা ঘাট কুতুবদিয়া থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র সহজপথ। কিন্তু এখন ঘাটের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। প্ল্যাটফর্মের পিলারগুলো নড়বড়ে, রেলিং ভেঙে যাওয়ায় যাত্রীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম বলেন, ২০ বছর আগে জেটি নির্মাণ হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। এই অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন আধুনিকায়ন করে দীপ বাসী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে।
মগনামা লঞ্চঘাটে টোল আদায়ে নিয়োজিত এক কর্মী বলেন, সংস্কারের দাবিতে বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। সামুদ্রিক মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের কারণে মিনি ট্রাকের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করাও যাচ্ছে না। এছাড়াও ইমার্জেন্সি রুগী পারাপার হতে মাঝে মাঝে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলার ইউএনও মঈনুল হোসেন চৌধুরী জানান, সম্প্রতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক নিজে এসে ঘাটটি পরিদর্শন করেছেন। জেটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই আপাতত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে নতুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ঘাট নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দীর্ঘ ২০বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় কুতুবদিয়ার তিন লক্ষাধিক মানুষ এই জেটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। অবিলম্বে জেটি সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং দ্বীপবাসীর সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।