Dhaka ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণ হবে কিনা, আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি

--মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ।

অনলাইন ডেস্কঃ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল চার হাজার ৯১৫ দিন পর গ্রহণ হবে কিনা, সে বিষয়ে শুনানি অবকাশকালীন ছুটির পর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেন। এ সময় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য না করতে চিফ প্রসিকিউটরকে সতর্ক করেছেন আপিল বিভাগ।

পরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন আগামি ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অবকাশকালীন ছুটিতে যাবে আপিল বিভাগ। এরপর কোর্ট খুললে তারও ৪ সপ্তাহ পর এটির শুনানির দিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আদালতে আবেদনের পক্ষে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত চেয়েছেন।

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ছিল প্রথম রায়।

বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবুল কালাম আযাদ পরিচিতি পান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।

তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম। তিনি ২১ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে এখান থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে ২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর তিনি আত্মসমর্পণ করে আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার আবেদন করেন। এরপর আবুল কালাম আযাদ আপিল করেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Syed Enamul Huq

Popular Post

স্যাম্পল পোস্ট ফর ডিলেট

আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণ হবে কিনা, আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি

Update Time : ০৬:২০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল চার হাজার ৯১৫ দিন পর গ্রহণ হবে কিনা, সে বিষয়ে শুনানি অবকাশকালীন ছুটির পর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেন। এ সময় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য না করতে চিফ প্রসিকিউটরকে সতর্ক করেছেন আপিল বিভাগ।

পরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন আগামি ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অবকাশকালীন ছুটিতে যাবে আপিল বিভাগ। এরপর কোর্ট খুললে তারও ৪ সপ্তাহ পর এটির শুনানির দিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আদালতে আবেদনের পক্ষে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত চেয়েছেন।

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ছিল প্রথম রায়।

বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবুল কালাম আযাদ পরিচিতি পান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।

তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম। তিনি ২১ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে এখান থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে ২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর তিনি আত্মসমর্পণ করে আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার আবেদন করেন। এরপর আবুল কালাম আযাদ আপিল করেন।