ঝিনাইদহে ট্রাকচালকের ঝুলন্ত লাশ
শিমুল গাছের ডালে ঝুলছিল মরদেহ, আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যা—উদ্বেগে পরিবার
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি পুকুর পাড়ের শিমুল গাছ থেকে মধু হোসেন (২৮) নামে এক ট্রাকচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার রাতে, তবে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল নাগাদ স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে বিষয়টি সামনে আসে। নিহত মধু হোসেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের হীরাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিল্লাল হোসেন ওরফে বিল্লাল ড্রাইভারের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সকালে পুকুরের পাশে অবস্থিত একটি শিমুল গাছে লাশটি ঝুলতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঝিনাইদহ সদর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পেঁৗছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এদিকে, নিহত মধুর ছোট ভাই পরশ হোসেন জানান, মধু গত পাঁচ—ছয় মাস ধরে বিকাশ কুমার নামের এক ব্যক্তির ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তবে কিছুদিন ধরে তাদের বাবার সঙ্গে পারিবারিক মনোমালিন্য চলছিল, যার কারণে তিনি প্রায় দুই—তিন মাস ধরে বাড়ি থেকে দূরে ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
অন্যদিকে, স্থানীয়রা ঘটনাটিকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে মানতে পারছেন না। তাদের সন্দেহ, এটি হয়তো পরিকল্পিত হত্যাও হতে পারে। কারণ, মধু দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছিলেন এবং কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে মধু হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং যদি এটি আত্মহত্যা না হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












