Dhaka ০৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত অস্থিরতা, অচলায়তন ভাঙবে কীভাবে?

--ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে যখন দুদেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যে পুরো প্রক্রিয়ায় নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ভারতে থাকা শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নিজের সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থানের সমালোচনা করেন। ভারতের মাটিতে বসে সরাসরি এমন বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উসকানি দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া। ফলে দুদেশের সুসম্পর্ক ফেরানোর এই আলোচনা বর্তমানে কিছুটা থমকে গেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তের কূটনৈতিক জট ছড়ানোর মূল চাবিকাঠি হলো ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ রাখা। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া হলেও, তার রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে যদি এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়, তবে দুদেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ আবার ফিরে আসতে পারে। বাংলাদেশের তরফ থেকেও বলা হয়েছে, একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

তবে কূটনৈতিক এই ঠান্ডা লড়াই সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক নির্ভরতা কমার সুযোগ নেই। চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ যৌথ সীমান্ত থাকা দুদেশের মধ্যে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাণিজ্য রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষের জন্যই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই রাজনৈতিক মান-অভিমান বজায় থাকলেও, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে দুদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনিবার্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Syed Enamul Huq

Popular Post

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত অস্থিরতা, অচলায়তন ভাঙবে কীভাবে?

Update Time : ০১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে যখন দুদেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যে পুরো প্রক্রিয়ায় নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ভারতে থাকা শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নিজের সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থানের সমালোচনা করেন। ভারতের মাটিতে বসে সরাসরি এমন বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উসকানি দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া। ফলে দুদেশের সুসম্পর্ক ফেরানোর এই আলোচনা বর্তমানে কিছুটা থমকে গেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তের কূটনৈতিক জট ছড়ানোর মূল চাবিকাঠি হলো ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ রাখা। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া হলেও, তার রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে যদি এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়, তবে দুদেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ আবার ফিরে আসতে পারে। বাংলাদেশের তরফ থেকেও বলা হয়েছে, একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

তবে কূটনৈতিক এই ঠান্ডা লড়াই সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক নির্ভরতা কমার সুযোগ নেই। চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ যৌথ সীমান্ত থাকা দুদেশের মধ্যে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাণিজ্য রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষের জন্যই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই রাজনৈতিক মান-অভিমান বজায় থাকলেও, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে দুদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনিবার্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল-জাজিরা