Dhaka ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজেই ডুবছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি আধিপত্য

--ছবি: রয়টার্স

বিদেশ ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দর এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অস্থায়ী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন খবর প্রকাশের পর জ্বালানি খাতে বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে এ অবস্থায়ও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তাদের সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করে তাহলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে বসন্তকালীন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় গ্যাস প্রবাহ কমে গেছে, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। বুধবার প্রায় ৭ শতাংশ কমার পর বৃহস্পতিবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আরও প্রায় ৫ শতাংশ নেমে যায়। এর প্রভাব পুরো জ্বালানি খাতজুড়েই পড়েছে।

আলজাজিরা বলছে, নিউইয়র্ক মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে জুন মাসের সরবরাহের জন্য ফ্রন্ট-মান্থ গ্যাস ফিউচার অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাচাকাচি এই সময়ে ৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই চুক্তির দর ২৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন মূল্যে হওয়ার পথে রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে। এর একদিন আগে বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাবে।

যার মাধ্যমে যুদ্ধ একেবারে শেষ হয়ে যাবে। এরপর ৩০ দিনের একটি মেয়াদ শুরু হবে। যেখানে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ইরানিদের ওপর মার্কিনিদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত ও হরমুজ প্রণালি খোলার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে।এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তেলের দাম ১০৮ ডলার থেকে এক লাফে ১০০ ডলারে নেমে আসে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭০ ডলারের একটু বেশি। এখন দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খবরে দাম কমলেও, আগের অবস্থায় যায়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পায়। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।

এক্সিওস সম্ভাব্য চুক্তির প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তাদের সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করে তাহলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Syed Enamul Huq

Popular Post

স্যাম্পল পোস্ট ফর ডিলেট

হরমুজেই ডুবছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি আধিপত্য

Update Time : ০২:২৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
বিদেশ ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দর এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অস্থায়ী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন খবর প্রকাশের পর জ্বালানি খাতে বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে এ অবস্থায়ও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তাদের সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করে তাহলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে বসন্তকালীন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় গ্যাস প্রবাহ কমে গেছে, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। বুধবার প্রায় ৭ শতাংশ কমার পর বৃহস্পতিবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আরও প্রায় ৫ শতাংশ নেমে যায়। এর প্রভাব পুরো জ্বালানি খাতজুড়েই পড়েছে।

আলজাজিরা বলছে, নিউইয়র্ক মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে জুন মাসের সরবরাহের জন্য ফ্রন্ট-মান্থ গ্যাস ফিউচার অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাচাকাচি এই সময়ে ৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই চুক্তির দর ২৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন মূল্যে হওয়ার পথে রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে। এর একদিন আগে বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাবে।

যার মাধ্যমে যুদ্ধ একেবারে শেষ হয়ে যাবে। এরপর ৩০ দিনের একটি মেয়াদ শুরু হবে। যেখানে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ইরানিদের ওপর মার্কিনিদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত ও হরমুজ প্রণালি খোলার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে।এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তেলের দাম ১০৮ ডলার থেকে এক লাফে ১০০ ডলারে নেমে আসে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭০ ডলারের একটু বেশি। এখন দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খবরে দাম কমলেও, আগের অবস্থায় যায়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পায়। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।

এক্সিওস সম্ভাব্য চুক্তির প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তাদের সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করে তাহলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।