Dhaka ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা আ. লীগ নেতাদের, নেপথ্যে কী?

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০১:০১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

--সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা তালা খুলে ভেতরে প্রবেশও করেছেন– এরকম খবর উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমে।

দলের নির্দেশে, নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন, নাকি এর পেছনে বিএনপি বা জামায়াত বা অন্য কারো সঙ্গে কোনো সমঝোতা আছে– এসব প্রশ্নও সামনে আসছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং সে কারণে তারা এই নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি।

তবে নির্বাচনের পরপরই নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বেশ কিছু জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছে বা প্রবেশের চেষ্টা করেছে। আবার কিছু জায়গায় কার্যালয় খোলার পরপর পাল্টা দখল ও হামলারও ঘটনা ঘটেছে।

এ ধরনের তৎপরতার পেছনে কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। আত্মগোপনে থাকা দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন, দলের কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সেখানে যেতে বাধা নেই বলেই মনে করেন তারা।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

তবে ইউনূস সরকারের সময়েও দলটির নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করেছেন। এ ছাড়া দলটির অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের পক্ষে ও সরকারের বিপক্ষে মতামত বা প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা করেন সেখানেই তিনি কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে এ পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কর্মসূচি দিয়ে সেখানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটি কর্মীদের কিছুটা সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ ছাড়া দলটির কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে যে ধারণা পাওয়া গেছে তা হলো—নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভোটের সমর্থনের আশায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

সে সময়ই অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের ওই নেতারা নির্বাচনের পর তাদের কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে কিংবা বাধা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস পেয়েছেন।

তবে কোনো কোনো জায়গায় আশ্বাস দেওয়া বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের নিজ দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ এখন আবার তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে কার্যালয় খোলার পরেও কয়েকটি জায়গায় আবার হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা আ. লীগ নেতাদের, নেপথ্যে কী?

আপডেট এর সময় : ০১:০১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা তালা খুলে ভেতরে প্রবেশও করেছেন– এরকম খবর উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমে।

দলের নির্দেশে, নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন, নাকি এর পেছনে বিএনপি বা জামায়াত বা অন্য কারো সঙ্গে কোনো সমঝোতা আছে– এসব প্রশ্নও সামনে আসছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং সে কারণে তারা এই নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি।

তবে নির্বাচনের পরপরই নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বেশ কিছু জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছে বা প্রবেশের চেষ্টা করেছে। আবার কিছু জায়গায় কার্যালয় খোলার পরপর পাল্টা দখল ও হামলারও ঘটনা ঘটেছে।

এ ধরনের তৎপরতার পেছনে কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। আত্মগোপনে থাকা দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন, দলের কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সেখানে যেতে বাধা নেই বলেই মনে করেন তারা।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

তবে ইউনূস সরকারের সময়েও দলটির নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করেছেন। এ ছাড়া দলটির অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের পক্ষে ও সরকারের বিপক্ষে মতামত বা প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা করেন সেখানেই তিনি কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে এ পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কর্মসূচি দিয়ে সেখানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটি কর্মীদের কিছুটা সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ ছাড়া দলটির কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে যে ধারণা পাওয়া গেছে তা হলো—নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভোটের সমর্থনের আশায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

সে সময়ই অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের ওই নেতারা নির্বাচনের পর তাদের কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে কিংবা বাধা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস পেয়েছেন।

তবে কোনো কোনো জায়গায় আশ্বাস দেওয়া বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের নিজ দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ এখন আবার তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে কার্যালয় খোলার পরেও কয়েকটি জায়গায় আবার হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।