Dhaka ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রিমান্ডে

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০৩:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • 1

সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক সজল মিয়া (২০) হত্যাকাণ্ডের মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে ফতুল্লা থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঈনউদ্দিন কাদির এ আদেশ দেন। গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন সেলিনা হায়াৎ। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইউম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “হত্যা মামলায় আদালত সাবেক মেয়র আইভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া ফতুল্লা থানার আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “এজাহারে নাম থাকা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। কে গুলি করেছে, কার নেতৃত্বে গুলি চালানো হয়েছে—এ ব্যাপারে এজাহারে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর ও জামিন না হওয়ায় আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।” নিহত সজল মিয়া সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় জুতা কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তাঁর মা রুনা বেগম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, সাবেক এমপি শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ মোট ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই মামলায় আইভীর নাম ৬ নম্বরে রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাচ্—বাংলা ব্যাংকের সামনে আন্দোলনরত জনতার ওপর ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি ও মারধর চালানো হয়। এ সময় শ্রমিক সজল গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এর আগে, গত ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁকে মিনারুল নামের পোশাককর্মী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মোট ৬টি মামলা রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রিমান্ডে

আপডেট এর সময় : ০৩:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক সজল মিয়া (২০) হত্যাকাণ্ডের মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে ফতুল্লা থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঈনউদ্দিন কাদির এ আদেশ দেন। গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন সেলিনা হায়াৎ। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইউম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “হত্যা মামলায় আদালত সাবেক মেয়র আইভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া ফতুল্লা থানার আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “এজাহারে নাম থাকা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। কে গুলি করেছে, কার নেতৃত্বে গুলি চালানো হয়েছে—এ ব্যাপারে এজাহারে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর ও জামিন না হওয়ায় আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।” নিহত সজল মিয়া সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় জুতা কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তাঁর মা রুনা বেগম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, সাবেক এমপি শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ মোট ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই মামলায় আইভীর নাম ৬ নম্বরে রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাচ্—বাংলা ব্যাংকের সামনে আন্দোলনরত জনতার ওপর ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি ও মারধর চালানো হয়। এ সময় শ্রমিক সজল গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এর আগে, গত ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁকে মিনারুল নামের পোশাককর্মী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মোট ৬টি মামলা রয়েছে।