সিলেট ব্যুরো:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান ওয়াশব্লক নির্মাণে চরম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণ সামগ্রীর নিম্নমান, অনিয়মতান্ত্রিক বাস্তবায়ন ও যথাযথ তদারকির অভাবে শিক্ষা অবকাঠামো নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব ওয়াশব্লকের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান সিডিউল লঙ্ঘন করে নির্মাণ করছে। ইট, বালু, কংক্রিট ও রডের গুণগত মান নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন। ব্যবহার করা হচ্ছে অদক্ষ মিস্ত্রি এবং স্থানীয় মতামত উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে কাজ চালানো হচ্ছে।
হাড়িকান্দি হকিব আলী চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা মোর্শেদ লস্কর জানান, ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ওয়াশব্লকে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।
প্রধান শিক্ষক মাসুদ আলম বলেন, “ভিত্তিপ্রস্তর থেকেই অনিয়মের সূচনা হয়েছে। স্থানীয়দের মতামত ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুপারিশ উপেক্ষা করে কাজ চলছে।” একই অভিযোগ করেন হকিব আলী চৌধুরী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। তিনি বলেন, “ছাদের সংযোগ ঠিকমতো হয়নি, আবার সীমানাও নির্ধারিত হয়নি। এমনকি ছুটির দিন বা রাতে গোপনে কাজ চলছে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাহার এন্টারপ্রাইজের হয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর সেলিম উল্লাহ দাবি করেন, “আমরা কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করছি, কোনো অনিয়ম হয়নি।”
তবে জকিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুম মিয়া জানান, “কয়েকটি বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। গুণগত মান নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজাদ কাজী বলেন, “কিছু স্থানে অনিয়মের অভিযোগ সত্য। সংশোধনের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।”
স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।















