Dhaka ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গভীরে যেতে হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০১:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 1

--ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্কঃ

সাংবাদিক সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য অনেক গভীরে যেতে হওয়ায় চার্জশিট দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনি সংসদে আরো জানিয়েছেন, গত এক বছরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার চোরাই পণ্য ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আটক করেছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ সকল তথ্য জানান। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. হাফিজ উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত কবে শেষ হবে সে সময় বেঁধে দিতে পারি না।

আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দিকনির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাপক তল্লাশি এবং নজরদারি বৃদ্ধির ফলে প্রায়ই বিজিবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য আটক করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত জব্দকৃত উল্লেখযোগ্য চোরাচালান পণ্যের মধ্যে  রয়েছে, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, ক্রিস্টাল মেথ আইস, এলএসডি, ইস্কাফ সিরাপ, বিভিন্ন নেশা জাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশনের মতো মাদকদ্রব্য রয়েছে। আর অন্যান্য চোরাচালানি পণ্যের বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ, স্বর্ণ, রৌপ্য, বিভিন্ন প্রকার বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদি পশু, কাঠ, কষ্টিপাথর, বিভিন্ন প্রকার তৈরি পোশাক ও কাপড়, চা পাতা, বিভিন্ন প্রকার ফল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যপণ্য, যানবাহন, ইমিটেশন, প্রসাধনী সামগ্রী, আতশবাজি ইত্যাদি রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহে ৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট মোতায়েনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে তিনি জানান, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক গাড়ি পাম্প ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংগ্রহের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনসমূহকে আধুনিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, এরই ধারাবাহিকতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনসমূহে আধুনিক ও যুগোপযোগী গাড়ি পাম্প ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স’ এবং ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অধীনে ১৩টি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট মোতায়েন’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হলে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।

ট্রাফিক বিভাগের ৭৭৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায় 
গত ১৫ বছরে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জরিমানার মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আদায় করেছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পুলিশের বিভিন্ন স্থানে জরাজীর্ণ থানাগুলোকে আধুনিকীকরণ এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও আবাসিক সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানায় প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গভীরে যেতে হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০১:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
অনলাইন ডেস্কঃ

সাংবাদিক সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য অনেক গভীরে যেতে হওয়ায় চার্জশিট দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনি সংসদে আরো জানিয়েছেন, গত এক বছরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার চোরাই পণ্য ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আটক করেছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ সকল তথ্য জানান। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. হাফিজ উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত কবে শেষ হবে সে সময় বেঁধে দিতে পারি না।

আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দিকনির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাপক তল্লাশি এবং নজরদারি বৃদ্ধির ফলে প্রায়ই বিজিবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য আটক করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত জব্দকৃত উল্লেখযোগ্য চোরাচালান পণ্যের মধ্যে  রয়েছে, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, ক্রিস্টাল মেথ আইস, এলএসডি, ইস্কাফ সিরাপ, বিভিন্ন নেশা জাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশনের মতো মাদকদ্রব্য রয়েছে। আর অন্যান্য চোরাচালানি পণ্যের বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ, স্বর্ণ, রৌপ্য, বিভিন্ন প্রকার বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদি পশু, কাঠ, কষ্টিপাথর, বিভিন্ন প্রকার তৈরি পোশাক ও কাপড়, চা পাতা, বিভিন্ন প্রকার ফল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যপণ্য, যানবাহন, ইমিটেশন, প্রসাধনী সামগ্রী, আতশবাজি ইত্যাদি রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহে ৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট মোতায়েনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে তিনি জানান, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক গাড়ি পাম্প ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংগ্রহের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনসমূহকে আধুনিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, এরই ধারাবাহিকতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনসমূহে আধুনিক ও যুগোপযোগী গাড়ি পাম্প ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স’ এবং ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অধীনে ১৩টি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ৭৩টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট মোতায়েন’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হলে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।

ট্রাফিক বিভাগের ৭৭৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায় 
গত ১৫ বছরে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জরিমানার মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আদায় করেছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পুলিশের বিভিন্ন স্থানে জরাজীর্ণ থানাগুলোকে আধুনিকীকরণ এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও আবাসিক সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানায় প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।