খেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ফুটবলের মাঝমাঠের যে ক’জন তারকা ফুটবলার ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মামুনুল হক। একসময় জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে সতীর্থদের পথ দেখিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে। মাঠে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল খেলার ছন্দ বোঝার ক্ষমতা। কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন ম্যাচের গতি কমিয়ে আনতে হবে, কখন প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হবে এসব দক্ষতাই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।
তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে তিনি দেখছেন একজন সমর্থকের চোখে নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও সাবেক অধিনায়কের বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে। আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বিশ্বকাপের হিসাব কষতে গিয়ে আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখেছেন তিনি। তার মতে, বর্তমান সময়ের ফুটবল শক্তির বিচারে স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্সই সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
‘আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক, এটা গোপন কিছু নয়। কিন্তু বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ করতে গেলে আবেগকে এক পাশে রাখতে হয়। আমার কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী চার দল হলো স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্স।
আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সবচেয়ে বড় কথা, তারা জানে কীভাবে বড় ম্যাচ জিততে হয়। লিওনেল স্কালোনি এমন একটি দল গড়ে তুলেছেন, যেখানে সবাই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার। গোলবারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, মাঝমাঠে এনসো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, আর সামনে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে দলটি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য এবং জয়ের মানসিকতা।
ফ্রান্সকে আমি শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদারদের একটি মনে করি। তাদের স্কোয়াডের গভীরতা অসাধারণ। মাইক মেনিয়াঁ, উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা থেকে শুরু করে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। কোচ দিদিয়ের দেশঁ দীর্ঘদিন ধরে এই দলকে পরিচালনা করছেন। বিশ্বকাপের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তিনি খুব ভালো জানেন।
স্পেনকে আমি এবার খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ তারা শুধু প্রতিভাবান নয়, দল হিসেবেও পরিণত। পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস ও লামিন ইয়ামালের মতো ফুটবলাররা আধুনিক ফুটবলের নতুন মুখ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন আবারও নিজেদের পরিচিত পাসিং ফুটবলের সঙ্গে গতি ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছে। এই দলটি অনেক দূর যেতে পারে।
জার্মানিকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। বিশ্বকাপের ইতিহাসই বলে, টুর্নামেন্ট যত বড় হয়, জার্মানি তত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জ্যামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, যশুয়া কিমিখ, আন্তোনিও রুডিগারদের নিয়ে তারা নতুন এক দল গড়ে তুলেছে। জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
বিশ্বকাপে অনেক সময় সবচেয়ে প্রতিভাবান দল নয়, সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল সফল হয়। ইতিহাস বলছে, যারা সংকটের মুহূর্তে একসঙ্গে লড়াই করতে পারে, তারাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে তোলে। তাই আমি মনে করি, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকবে স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হলো, এখানে কোনো কিছু আগে থেকে লেখা থাকে না। একটি গোল, একটি সেভ কিংবা একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বদলে দিতে পারে পুরো ইতিহাস। আর সেই অনিশ্চয়তার কারণেই বিশ্বকাপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসব।’











