Dhaka ০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাট সীমান্তে সক্রিয় চোরাচালান চক্রের বড় চালান আটক করল ১৫ বিজিবি

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০১:৩৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 2

--প্রেরিত ছবি

মেহেরুবান হাবিব
‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

‎লালমনিরহাট সীমান্তকে ব্যবহার করে সক্রিয় চোরাচালান ও মাদকপাচার চক্রের একটি বড় চালান ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, কাপড় ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিনে ও রাতে পৃথক পৃথক সময়ে ব্যাটালিয়ন সদর ও অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপি’র সদস্যরা এই সফল অভিযান পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা ভারতীয় পণ্য গোপনে স্টোর করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম এলাকা থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানে করে এসব পণ্য রাজধানী ঢাকার দিকে পাচারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করে এবং সম্ভাব্য চলাচল রুটে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। চেকপোস্টে সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যানটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়—
‎ভারতীয় জিরা: ২৫১১ কেজি, ভারতীয় শাল ও চাদর: ১৮০টি, জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
পৃথক অভিযানে মাদক জব্দ
‎একই দিনে অধীনস্থ ০৪টি বিওপি’র পৃথক ০৩টি চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয়- ভারতীয় গাঁজা: ১৩ কেজি (সিজার মূল্য ৪৫,৫০০ টাকা) ইস্কাফ সিরাপ: ১৪০ বোতল (সিজার মূল্য ৫৬,০০০ টাকা) এতে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা। নেপথ্যে চোরাচালান চক্র, তদন্ত চলছে। বিজিবি জানায়, এসব ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারীদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে এবং জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, পণ্য চোরাচালান জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে দেশীয় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়, সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় এবং সীমান্ত এলাকায় অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি তার অপারেশনাল তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

লালমনিরহাট সীমান্তে সক্রিয় চোরাচালান চক্রের বড় চালান আটক করল ১৫ বিজিবি

আপডেট এর সময় : ০১:৩৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মেহেরুবান হাবিব
‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

‎লালমনিরহাট সীমান্তকে ব্যবহার করে সক্রিয় চোরাচালান ও মাদকপাচার চক্রের একটি বড় চালান ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, কাপড় ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিনে ও রাতে পৃথক পৃথক সময়ে ব্যাটালিয়ন সদর ও অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপি’র সদস্যরা এই সফল অভিযান পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা ভারতীয় পণ্য গোপনে স্টোর করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম এলাকা থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানে করে এসব পণ্য রাজধানী ঢাকার দিকে পাচারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করে এবং সম্ভাব্য চলাচল রুটে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। চেকপোস্টে সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যানটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়—
‎ভারতীয় জিরা: ২৫১১ কেজি, ভারতীয় শাল ও চাদর: ১৮০টি, জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
পৃথক অভিযানে মাদক জব্দ
‎একই দিনে অধীনস্থ ০৪টি বিওপি’র পৃথক ০৩টি চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয়- ভারতীয় গাঁজা: ১৩ কেজি (সিজার মূল্য ৪৫,৫০০ টাকা) ইস্কাফ সিরাপ: ১৪০ বোতল (সিজার মূল্য ৫৬,০০০ টাকা) এতে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা। নেপথ্যে চোরাচালান চক্র, তদন্ত চলছে। বিজিবি জানায়, এসব ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারীদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে এবং জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, পণ্য চোরাচালান জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে দেশীয় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়, সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় এবং সীমান্ত এলাকায় অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি তার অপারেশনাল তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার থাকবে।