Dhaka ০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘রাষ্ট্রের উচিত শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া’

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০১:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • 3

--সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্কঃ
বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, ‘যে রাষ্ট্র ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতে পারে না, সে রাষ্ট্রের উচিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে ছুটি দেওয়া।’বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে ছুটি দেওয়া হোক। আমরা সিএনজি চালিয়ে, রিকশা চালিয়ে ও কৃষিকাজ করে আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে জীবন যাপন করব।

তিনি বলেন, ‘আমরা উপদেষ্টাকে বলেছি, আপনি আমাদের বাবার মতো। আমাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। আমাদের প্রত্যাশা, আপনি আমাদের ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করে দেন। তার সামনে কান্না করেছি।
কিন্তু তিনি তার বক্তব্যে অনড়।’তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাকে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে এ বছর বাড়িভাড়া ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করুন। আর আগামী বাজেটে আরো ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করবেন। প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
কিন্তু তিনি আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করেননি।’জানা যায়, মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা) বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার বলছে, বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) দিতে পারবে। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা সেটি মানতে নারাজ।বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরের পর সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধিদল।

তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা।শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর্যায়ে থাকা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ (বাড়িভাড়া) তারা দিতে পারবে এবং সেটি ন্যূনতম দুই হাজার টাকা থাকবে। এখন যেখানে টাকা নেই, সেখানে এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটা শিক্ষক-কর্মচারীদের জানানো হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন তারা এই প্রস্তাবে রাজি নয়, এটি অগ্রহণযোগ্য।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘সামনের অর্থবছরের বাজেটে যেন আরো কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করা যায় সেটার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই প্রস্তাবে রাজি না। তারা বলেছেন, এখন ১০ শতাংশ দিতে হবে, সামনের বছর ১০ শতাংশ দিতে হবে।’

সি আর আবরার আরো বলেন, ‘এটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। আমরা সেটিতে রাজি হইনি। সংস্থান থাকলে করতে করতাম। এখন বাজেটের যে অবস্থা তাতে ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

‘রাষ্ট্রের উচিত শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া’

আপডেট এর সময় : ০১:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
অনলাইন ডেস্কঃ
বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, ‘যে রাষ্ট্র ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতে পারে না, সে রাষ্ট্রের উচিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে ছুটি দেওয়া।’বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে ছুটি দেওয়া হোক। আমরা সিএনজি চালিয়ে, রিকশা চালিয়ে ও কৃষিকাজ করে আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে জীবন যাপন করব।

তিনি বলেন, ‘আমরা উপদেষ্টাকে বলেছি, আপনি আমাদের বাবার মতো। আমাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। আমাদের প্রত্যাশা, আপনি আমাদের ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করে দেন। তার সামনে কান্না করেছি।
কিন্তু তিনি তার বক্তব্যে অনড়।’তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাকে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে এ বছর বাড়িভাড়া ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করুন। আর আগামী বাজেটে আরো ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করবেন। প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
কিন্তু তিনি আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করেননি।’জানা যায়, মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা) বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার বলছে, বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) দিতে পারবে। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা সেটি মানতে নারাজ।বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরের পর সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধিদল।

তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা।শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর্যায়ে থাকা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ (বাড়িভাড়া) তারা দিতে পারবে এবং সেটি ন্যূনতম দুই হাজার টাকা থাকবে। এখন যেখানে টাকা নেই, সেখানে এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটা শিক্ষক-কর্মচারীদের জানানো হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন তারা এই প্রস্তাবে রাজি নয়, এটি অগ্রহণযোগ্য।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘সামনের অর্থবছরের বাজেটে যেন আরো কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করা যায় সেটার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই প্রস্তাবে রাজি না। তারা বলেছেন, এখন ১০ শতাংশ দিতে হবে, সামনের বছর ১০ শতাংশ দিতে হবে।’

সি আর আবরার আরো বলেন, ‘এটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। আমরা সেটিতে রাজি হইনি। সংস্থান থাকলে করতে করতাম। এখন বাজেটের যে অবস্থা তাতে ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না।’