অনলাইন ডেস্কঃআলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীর এক ভাতিজিকে হেনস্থা ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে শ্যামগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। ওই পোস্টে তিনি বলেন, আমি স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ— বলার মতো কোনো ভাষা নেই।
এসব কথার কারণে আওয়ামী লীগের লোকজন হয়তো হাসাহাসি করবে, কিন্তু বাস্তবতা তো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না!তিনি বলেন, আমার এক চাচাতো ভাই তার ভাতিজিকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। তিনি নিজে প্রাইভেটকার চালক, আর মেয়েটি পিছনের সিটে শুয়ে ছিলেন। মেয়েটি বিবাহিত। পথে পূর্বধলা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পল্লব শ্যামগঞ্জ বাজারে রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে গাড়ি থামিয়ে টেনে হিঁচড়ে মেয়েটিকে নামিয়ে শ্লীলতাহানি করে। তারা মেয়েটিকে চড়থাপ্পড় মারে এবং জোরপূর্বক নিয়ে যায়।তিনি আরো বলেন, আমার ভাই তাদের থামাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। মেয়েটিকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করি।পূর্বধলা থানার ওসি ঘটনাস্থলে গেলেও আমি ফোনে থাকার সময়ও দেখেছি, ওসির সামনে আমার ভাইকে হুমকি ও গালাগালি করা হচ্ছে এবং আঘাত করা হয়েছে!রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, আমি পল্লবসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে, যিনি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেই পূর্বধলা থানার ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি!এদিকে, অভিযুক্ত পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সালমান রহমান পল্লবকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। বুধবার বিকেলে ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলা শাখার অধীনস্থ পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সালমান রহমান পল্লবকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। নেতৃবৃন্দ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনোরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
অভিযুক্ত পল্লবকে বহিষ্কার করায় ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছাত্রদলের বহিস্কারাদেশটি পোস্ট করে তিনি বলেন, ছাত্রদলকে ধন্যবাদ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বিশেষ করে লুৎফর জামান বাবর ভাই ও ছাত্রদল সভাপতি রাকিব ভাইকে যারা আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং দ্রুত পল্লবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন!