Dhaka ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিথ্যুকের রোজা কবুল হয় না

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০২:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 7

--ফাইল ছবি

ধর্ম ডেস্ক:

রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার প্রশিক্ষণের মাস। রোজা শুধু ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন নয়, এটি মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তনের এক মহড়া। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। তাই রোজা রেখে এমন কাজ করা উচিত নয়, যা রোজার মহিমা ক্ষুণ্ন করে।

বিশেষ করে মিথ্যা বলা সর্বাবস্থায়ই অপরাধ।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মিথ্যা ত্যাগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯) অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘যে সীমা লঙ্ঘন করে আর মিথ্যা বলে আল্লাহ তাকে সঠিক পথ দেখান না। ’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ২৮)

এসব আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে মিথ্যা তাকওয়া অর্জনের পথকে রুদ্ধ করে দেয়। তাই তো এ বিষয়ে একটু কঠোর উক্তিই করেছেন মহানবী (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

অর্থাৎ কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করলেই রোজার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না; জিহ্বা ও আচরণ শুদ্ধ না হলে রোজার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যাচার, মূর্খতা ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৮৯)নাউজুবিল্লাহ, মিথ্যা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু জঘন্য অপরাধ হলে এত কঠিন ভাষায় সতর্ক করা হয়। যদিও ফিকহের দৃষ্টিতে মিথ্যা বললে রোজা ভেঙে যাওয়ার মাসআলা পাওয়া যায় না। কিন্তু এতে রোজার সওয়াব মারাত্মকভাবে কমে যায়, এমনকি রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি ব্যর্থ হতে পারে। তাই রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা সাধারণ সময়ের চেয়েও অধিক গর্হিত।

রোজা আমাদের শেখায় সত্যবাদিতাও সেই সংযমের প্রধান ভিত্তি। মিথ্যা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে, সম্পর্ক ভাঙে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। রোজার মাসে যদি আমরা মিথ্যা ত্যাগের অঙ্গীকার না করি, তবে এই ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা আমরা গ্রহণ করলাম না।

অতএব, রোজা শুধু ক্ষুধা সহ্য করার নাম নয়, এটি সত্যকে আঁকড়ে ধরার এবং মিথ্যাকে পরিত্যাগ করার এক মহৎ অঙ্গীকার। যে রোজা জিহ্বাকে সত্যে অভ্যস্ত করে, সেই রোজাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।

লেখক: মাইমুনা আক্তার

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

মিথ্যুকের রোজা কবুল হয় না

আপডেট এর সময় : ০২:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ধর্ম ডেস্ক:

রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার প্রশিক্ষণের মাস। রোজা শুধু ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন নয়, এটি মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তনের এক মহড়া। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। তাই রোজা রেখে এমন কাজ করা উচিত নয়, যা রোজার মহিমা ক্ষুণ্ন করে।

বিশেষ করে মিথ্যা বলা সর্বাবস্থায়ই অপরাধ।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মিথ্যা ত্যাগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯) অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘যে সীমা লঙ্ঘন করে আর মিথ্যা বলে আল্লাহ তাকে সঠিক পথ দেখান না। ’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ২৮)

এসব আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে মিথ্যা তাকওয়া অর্জনের পথকে রুদ্ধ করে দেয়। তাই তো এ বিষয়ে একটু কঠোর উক্তিই করেছেন মহানবী (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

অর্থাৎ কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করলেই রোজার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না; জিহ্বা ও আচরণ শুদ্ধ না হলে রোজার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যাচার, মূর্খতা ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৮৯)নাউজুবিল্লাহ, মিথ্যা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু জঘন্য অপরাধ হলে এত কঠিন ভাষায় সতর্ক করা হয়। যদিও ফিকহের দৃষ্টিতে মিথ্যা বললে রোজা ভেঙে যাওয়ার মাসআলা পাওয়া যায় না। কিন্তু এতে রোজার সওয়াব মারাত্মকভাবে কমে যায়, এমনকি রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি ব্যর্থ হতে পারে। তাই রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা সাধারণ সময়ের চেয়েও অধিক গর্হিত।

রোজা আমাদের শেখায় সত্যবাদিতাও সেই সংযমের প্রধান ভিত্তি। মিথ্যা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে, সম্পর্ক ভাঙে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। রোজার মাসে যদি আমরা মিথ্যা ত্যাগের অঙ্গীকার না করি, তবে এই ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা আমরা গ্রহণ করলাম না।

অতএব, রোজা শুধু ক্ষুধা সহ্য করার নাম নয়, এটি সত্যকে আঁকড়ে ধরার এবং মিথ্যাকে পরিত্যাগ করার এক মহৎ অঙ্গীকার। যে রোজা জিহ্বাকে সত্যে অভ্যস্ত করে, সেই রোজাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।

লেখক: মাইমুনা আক্তার