অনলাইন ডেস্ক:
ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও কোচিং ব্যবসা বাড়বে বলে মনে করেন জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলনের নেতারা। তারা ভর্তি ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত হতে সরে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদ সেলিম ও সদস্যসচিব রুস্তম আলী খোকন বলেন, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের সম্মিলিত দাবির প্রেক্ষিতে ভর্তিতে লটারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বাধ্য হয়। ভর্তি ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, কোচিং ব্যবসা বৃদ্ধি ও ফিল্টারিং করে শিক্ষার্থী ভর্তি করে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাবি করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টিসহ প্রভৃতি নেতিবাচক দিকসমূহ প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়।
বিষয়টি ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষা গবেষকসহ সমাজের সব অংশের দাবির প্রতিফলন ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তাড়াহুড়ো করে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রকৃতপক্ষে জনমতকে উপেক্ষা করেছে। যা জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের স্কুল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক প্রহার, জোর করে শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে বের করে দেওয়া এবং মব সন্ত্রাসের মতো ঘটনাসমূহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক না, ট্রমাটাইজড হয়ে আছে।
মব জাস্টিস বা ভায়োলেন্সের সঙ্গে জড়িতদের বিচার, জোরপূর্বক শিক্ষকদের চাকরি পুনর্বহালসহ শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ভয়মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিই ছিল সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের প্রাথমিক কাজ।২০১০ সালের প্রণীত শিক্ষানীতির আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানা প্রযুক্তি, ধ্যান-ধারণা চিরাচরিত শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বাংলাদেশকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অগ্রসর হতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার, একই পদ্ধতির সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়নের লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, ছাত্র ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।অন্যথায় আধুনিক শিক্ষা ধারা হতে বাংলাদেশ আরো পিছিয়ে যাবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা দুরূহ হয়ে পড়বে।