Dhaka ০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব মা দিবস আজ

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১২:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • 1

--সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্কঃ

এই পৃথিবীতে একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক হলেন মা। যিনি সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, সিনেমা, ইতিহাস সবখানে মায়ের অসীম ত্যাগ ও ভালোবাসা নিয়ে রয়েছে অসংখ্য উদাহরণ। ধর্মেও মাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মা সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের মূল্যায়নও গভীর অর্থবহ। আজ রবিবার বিশ্ব মা দিবস।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয় দিবসটি। বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালিত হয়।

তবে মা দিবসের গল্প শুধু আবেগের নয়। এর ভেতরে আছে সামাজিক আন্দোলন, ইতিহাস, প্রতিবাদ এবং একজন নারীর দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি।‘মা’ শব্দের ভেতর জড়িয়ে আছে জন্ম, নিরাপত্তা, আত্মত্যাগ, মমতা, শিকড় আর অস্তিত্বের গল্প। একজন মানুষের জীবনে প্রথম যে আশ্রয়, স্পর্শ ও ভাষা, তার অনেকটা শুরু হয় মায়ের মধ্য দিয়ে।

উনিশ শতকের আমেরিকায় সামাজিক অস্থিরতার সময় নারীদের স্বাস্থ্য, শিশু পরিচর্যা এবং পারিবারিক পুনর্গঠনে কাজ করতেন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হো এবং অ্যান রিভস জার্ভিস। ১৮৭০ সালে শান্তি ও মানবতার পক্ষে ‘মাদারস ডে প্রোক্লেমেশন’ প্রকাশ করেন জুলিয়া ওয়ার্ড হো। একই সময় অ্যান রিভস জার্ভিস নারীদের সংগঠিত করে।

১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের সেন্ট অ্যান্ড্রুস মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চে আনা জার্ভিস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন। সেদিন তিনি অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ‘সাদা কার্নেশন’, তাঁর মায়ের প্রিয় ফুল। এরপর ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সরকারি ছুটিও দেওয়া হয় দিনটিতে। এর পর থেকে বিশ্বের নানা দেশ এই দিনকে নিজেদের মতো গ্রহণ করে।

মা দিবস এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে শুধু এর ইতিহাস দিয়েই মা দিবসের গল্প পূর্ণ হয় না। একসময় ভাবা হতো, মায়ের ভূমিকা পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমান সমাজে মায়ের পরিচয় বহুমাত্রিক। তিনি একই সঙ্গে সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরিবারের মানসিক শক্তি, কর্মজীবী নারী, উদ্যোক্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সমাজ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি।

পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

বিশ্ব মা দিবস আজ

আপডেট এর সময় : ১২:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
অনলাইন ডেস্কঃ

এই পৃথিবীতে একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক হলেন মা। যিনি সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, সিনেমা, ইতিহাস সবখানে মায়ের অসীম ত্যাগ ও ভালোবাসা নিয়ে রয়েছে অসংখ্য উদাহরণ। ধর্মেও মাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মা সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের মূল্যায়নও গভীর অর্থবহ। আজ রবিবার বিশ্ব মা দিবস।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয় দিবসটি। বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালিত হয়।

তবে মা দিবসের গল্প শুধু আবেগের নয়। এর ভেতরে আছে সামাজিক আন্দোলন, ইতিহাস, প্রতিবাদ এবং একজন নারীর দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি।‘মা’ শব্দের ভেতর জড়িয়ে আছে জন্ম, নিরাপত্তা, আত্মত্যাগ, মমতা, শিকড় আর অস্তিত্বের গল্প। একজন মানুষের জীবনে প্রথম যে আশ্রয়, স্পর্শ ও ভাষা, তার অনেকটা শুরু হয় মায়ের মধ্য দিয়ে।

উনিশ শতকের আমেরিকায় সামাজিক অস্থিরতার সময় নারীদের স্বাস্থ্য, শিশু পরিচর্যা এবং পারিবারিক পুনর্গঠনে কাজ করতেন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হো এবং অ্যান রিভস জার্ভিস। ১৮৭০ সালে শান্তি ও মানবতার পক্ষে ‘মাদারস ডে প্রোক্লেমেশন’ প্রকাশ করেন জুলিয়া ওয়ার্ড হো। একই সময় অ্যান রিভস জার্ভিস নারীদের সংগঠিত করে।

১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের সেন্ট অ্যান্ড্রুস মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চে আনা জার্ভিস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন। সেদিন তিনি অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ‘সাদা কার্নেশন’, তাঁর মায়ের প্রিয় ফুল। এরপর ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সরকারি ছুটিও দেওয়া হয় দিনটিতে। এর পর থেকে বিশ্বের নানা দেশ এই দিনকে নিজেদের মতো গ্রহণ করে।

মা দিবস এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে শুধু এর ইতিহাস দিয়েই মা দিবসের গল্প পূর্ণ হয় না। একসময় ভাবা হতো, মায়ের ভূমিকা পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমান সমাজে মায়ের পরিচয় বহুমাত্রিক। তিনি একই সঙ্গে সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরিবারের মানসিক শক্তি, কর্মজীবী নারী, উদ্যোক্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সমাজ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি।

পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।