Dhaka ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গভবনে বিক্ষোভ চলাকালে রাষ্ট্রপতিকে ফোনে যা বলেছিলেন নাহিদ ইসলাম

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০৬:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

--সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক:

বঙ্গভবনে মব পরিস্থিতির সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ফোন করেছিলেন তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন ওই আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।  গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ওই সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এ কথা বলেন।  রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই রাত ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা।

রাষ্ট্রপতি জানান, একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে নাহিদ ইসলাম তাঁকে ফোন করল যে, ‘এরকম একটা খবর পাওয়া গেছে, ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।’

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তি এসে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে নিয়ে চলে যায়। তবে সবাই সরে যায়নি। একটি অংশ থেকে যায় এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত দুইটা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট টানতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়। অমুকের দল, তমুকের দল, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই ঐক্য-নানা নামে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে একই ধরনের লোকজন রাস্তায় নামে।

তাঁর প্রশ্ন, এত বড় কর্মসূচির অর্থের জোগান তারা কোথা থেকে পেল?ঘেরাওয়ের পরপরই সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে সদস্যরা এসে বঙ্গভবনের চারপাশে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এর মধ্যেই একটি ঘটনা রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটি মেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর উঠে লাফ দেয়। রাষ্ট্রপতির মতে, পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং ভাড়াটিয়া চরিত্রের। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর মেয়েটি মাটিতে পড়ে থাকে এবং ক্যামেরাম্যানকে উদ্দেশ করে ছবি তুলতে আহ্বান জানাতে থাকে।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, এর উদ্দেশ্য ছিল ছবি ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো এবং ব্ল্যাকমেইলের সুযোগ তৈরি করা। পরে নারী পুলিশ ও নারী সেনাসদস্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে তুলে সেনাবাহিনীর জিপে করে সরিয়ে নেয়।
রাষ্ট্রপতির মতে, ওই রাত শুধু নিরাপত্তার দিক থেকে নয়, মানসিক দিক থেকেও ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। ফ্লাইওভার দিয়ে ঠেলাগাড়ি, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানে করে চারদিক থেকে ছিন্নমূল লোকজন আসতে থাকে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ৫ আগস্ট যেভাবে গণভবন লুট হয়েছিল, একইভাবে বঙ্গভবনও লুট হতে পারে। সে সময় তাঁরা বঙ্গভবনের ভেতরেই ছিলেন। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, তাঁর আর কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, তিনি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নন।

শেষ পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাষ্ট্রপতির দাবি, এপিসি ব্যবহার করে সেনাসদস্যরা ধীরে ধীরে মবকে ঠেলে সরিয়ে দেয় এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

বঙ্গভবনে বিক্ষোভ চলাকালে রাষ্ট্রপতিকে ফোনে যা বলেছিলেন নাহিদ ইসলাম

আপডেট এর সময় : ০৬:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক:

বঙ্গভবনে মব পরিস্থিতির সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ফোন করেছিলেন তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন ওই আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।  গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ওই সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এ কথা বলেন।  রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই রাত ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা।

রাষ্ট্রপতি জানান, একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে নাহিদ ইসলাম তাঁকে ফোন করল যে, ‘এরকম একটা খবর পাওয়া গেছে, ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।’

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তি এসে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে নিয়ে চলে যায়। তবে সবাই সরে যায়নি। একটি অংশ থেকে যায় এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত দুইটা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট টানতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়। অমুকের দল, তমুকের দল, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই ঐক্য-নানা নামে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে একই ধরনের লোকজন রাস্তায় নামে।

তাঁর প্রশ্ন, এত বড় কর্মসূচির অর্থের জোগান তারা কোথা থেকে পেল?ঘেরাওয়ের পরপরই সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে সদস্যরা এসে বঙ্গভবনের চারপাশে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এর মধ্যেই একটি ঘটনা রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটি মেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর উঠে লাফ দেয়। রাষ্ট্রপতির মতে, পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং ভাড়াটিয়া চরিত্রের। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর মেয়েটি মাটিতে পড়ে থাকে এবং ক্যামেরাম্যানকে উদ্দেশ করে ছবি তুলতে আহ্বান জানাতে থাকে।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, এর উদ্দেশ্য ছিল ছবি ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো এবং ব্ল্যাকমেইলের সুযোগ তৈরি করা। পরে নারী পুলিশ ও নারী সেনাসদস্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে তুলে সেনাবাহিনীর জিপে করে সরিয়ে নেয়।
রাষ্ট্রপতির মতে, ওই রাত শুধু নিরাপত্তার দিক থেকে নয়, মানসিক দিক থেকেও ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। ফ্লাইওভার দিয়ে ঠেলাগাড়ি, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানে করে চারদিক থেকে ছিন্নমূল লোকজন আসতে থাকে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ৫ আগস্ট যেভাবে গণভবন লুট হয়েছিল, একইভাবে বঙ্গভবনও লুট হতে পারে। সে সময় তাঁরা বঙ্গভবনের ভেতরেই ছিলেন। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, তাঁর আর কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, তিনি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নন।

শেষ পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাষ্ট্রপতির দাবি, এপিসি ব্যবহার করে সেনাসদস্যরা ধীরে ধীরে মবকে ঠেলে সরিয়ে দেয় এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।