Dhaka ১০:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টা অবাস্তব কথা বলেন : মাহবুব কামাল

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০১:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • 3

--সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব কামাল।

অনলাইন ডেস্কঃ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘অবাস্তব কথা বলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, ‘অবাস্তব কথা বলার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যার বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই। আর এই কাজটা প্রধান উপদেষ্টা বেশি করে করছেন, এটা আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক।’

বুধবার (২৯ অক্টোবর) মাসুদ কামালের ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘অন্যমঞ্চে’ মাহবুব কামাল এসব কথা বলেন।

মাহবুব কামাল বলেন, “উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলছেন, ‘জুলাই সনদ পাসের মধ্য দিয়ে বর্বরতা থেকে আমরা সভ্যতায় ফিরে যাচ্ছি’, ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে’, ‘আমাদের যুবসমাজ বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে’—এসব অবাস্তব কথা বলছেন। এসব কথার কোনো জবাবদিহি নেই, তাকে কেউ প্রশ্ন করছে না—‘আপনি কেন এসব বলছেন?’ উনি যেন সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।”

মাহবুব কামাল আরো বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা—সবাইকে নিয়ে সমালোচনা করি। কিন্তু ড. ইউনূস সাহেব সব কিছুর ঊর্ধ্বে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিকে আক্রমণ করি না, আক্রমণ করি ব্যক্তির চিন্তাকে। ইউনূস সাহেব আমাদের ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি করেননি। কিন্তু তার চিন্তাপদ্ধতি যে রকম, সেটাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই।’

রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে মাহবুব কামাল বলেন, “রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের সংজ্ঞাটা বদলে গেছে। এখন রাষ্ট্র ‘মব’-এর মধ্য দিয়ে পার্সোনিফাইড হচ্ছে। মব ঠিক করছে রাষ্ট্র কেমন হবে।

মব বলছে, রাষ্ট্র কিছু না, আমিই রাষ্ট্র! এটা এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।”শিক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ছিল, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এখন মনে হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে লজ্জাবোধ। লজ্জাবোধ ফিরিয়ে আনতে না পারলে শত শিক্ষা দিয়েও এ জাতির কিছু করা যাবে না।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “জাপানের এক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই পদত্যাগ করেন। তার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল, ‘অভিযোগ প্রমাণ হয়নি, তবু কেন?’ তিনি বললেন, ‘অভিযোগ উঠেছে মানে ধারণা তৈরি হয়েছে—আমার আর থাকা চলে না।’ অথচ আমাদের দেশে কত দুর্নীতি হয় কিন্তু কারো লজ্জা নেই।”

ভাষার অবক্ষয় নিয়েও মাহবুব কামাল উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাষায় অশ্লীলতা ঢুকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেও স্ল্যাং চলে আসছে। বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বাসার সামনে যে স্লোগানগুলো দেওয়া হয়েছে, তা ভাষার এক বিকৃতি। আস্তে আস্তে ভাষাটা কিভাবে বদলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন প্রসঙ্গের মধ্যে থাকতে চায় না। যেমন আওয়ামী লীগকে দুর্নীতির কথা বললে তারা বলে—‘বিএনপির আমলে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেটা বলেন না কেন?’। নিজের অবস্থান কেউ বিতর্কিত করতে চায় না। তাই এক অপরাধকে আরেক অপরাধ দিয়ে জাস্টিফাই করতে চায়।’।

বামপন্থা প্রসঙ্গে মাহবুব কামাল বলেন, “বামপন্থার রাজনীতি মানে ছিল সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক সমাজ। এখন মুখে বাম কিন্তু কার্যত সবাই ডানপন্থী। যে লেফট ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করল, সে লেফট হলো কিভাবে? এখন বামপন্থা বলে কিছু নেই।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

প্রধান উপদেষ্টা অবাস্তব কথা বলেন : মাহবুব কামাল

আপডেট এর সময় : ০১:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
অনলাইন ডেস্কঃ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘অবাস্তব কথা বলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, ‘অবাস্তব কথা বলার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যার বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই। আর এই কাজটা প্রধান উপদেষ্টা বেশি করে করছেন, এটা আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক।’

বুধবার (২৯ অক্টোবর) মাসুদ কামালের ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘অন্যমঞ্চে’ মাহবুব কামাল এসব কথা বলেন।

মাহবুব কামাল বলেন, “উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলছেন, ‘জুলাই সনদ পাসের মধ্য দিয়ে বর্বরতা থেকে আমরা সভ্যতায় ফিরে যাচ্ছি’, ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে’, ‘আমাদের যুবসমাজ বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে’—এসব অবাস্তব কথা বলছেন। এসব কথার কোনো জবাবদিহি নেই, তাকে কেউ প্রশ্ন করছে না—‘আপনি কেন এসব বলছেন?’ উনি যেন সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।”

মাহবুব কামাল আরো বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা—সবাইকে নিয়ে সমালোচনা করি। কিন্তু ড. ইউনূস সাহেব সব কিছুর ঊর্ধ্বে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিকে আক্রমণ করি না, আক্রমণ করি ব্যক্তির চিন্তাকে। ইউনূস সাহেব আমাদের ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি করেননি। কিন্তু তার চিন্তাপদ্ধতি যে রকম, সেটাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই।’

রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে মাহবুব কামাল বলেন, “রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের সংজ্ঞাটা বদলে গেছে। এখন রাষ্ট্র ‘মব’-এর মধ্য দিয়ে পার্সোনিফাইড হচ্ছে। মব ঠিক করছে রাষ্ট্র কেমন হবে।

মব বলছে, রাষ্ট্র কিছু না, আমিই রাষ্ট্র! এটা এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।”শিক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ছিল, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এখন মনে হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে লজ্জাবোধ। লজ্জাবোধ ফিরিয়ে আনতে না পারলে শত শিক্ষা দিয়েও এ জাতির কিছু করা যাবে না।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “জাপানের এক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই পদত্যাগ করেন। তার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল, ‘অভিযোগ প্রমাণ হয়নি, তবু কেন?’ তিনি বললেন, ‘অভিযোগ উঠেছে মানে ধারণা তৈরি হয়েছে—আমার আর থাকা চলে না।’ অথচ আমাদের দেশে কত দুর্নীতি হয় কিন্তু কারো লজ্জা নেই।”

ভাষার অবক্ষয় নিয়েও মাহবুব কামাল উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাষায় অশ্লীলতা ঢুকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেও স্ল্যাং চলে আসছে। বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বাসার সামনে যে স্লোগানগুলো দেওয়া হয়েছে, তা ভাষার এক বিকৃতি। আস্তে আস্তে ভাষাটা কিভাবে বদলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন প্রসঙ্গের মধ্যে থাকতে চায় না। যেমন আওয়ামী লীগকে দুর্নীতির কথা বললে তারা বলে—‘বিএনপির আমলে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেটা বলেন না কেন?’। নিজের অবস্থান কেউ বিতর্কিত করতে চায় না। তাই এক অপরাধকে আরেক অপরাধ দিয়ে জাস্টিফাই করতে চায়।’।

বামপন্থা প্রসঙ্গে মাহবুব কামাল বলেন, “বামপন্থার রাজনীতি মানে ছিল সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক সমাজ। এখন মুখে বাম কিন্তু কার্যত সবাই ডানপন্থী। যে লেফট ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করল, সে লেফট হলো কিভাবে? এখন বামপন্থা বলে কিছু নেই।”