Dhaka ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে অন্তর্বর্তী সরকার

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০৫:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 1

--ড. ইফতেখারুজ্জামান

অনলাইন ডেস্ক:

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশ উপেক্ষা করছে। সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।’

দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়া হলেও এসব আইনি কাঠামোর বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে। বরং সংস্কারের নামে পুরনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংস্কার উদ্যোগের শুরু থেকে সংস্কার-প্রতিরোধক অপশক্তির কাছে অন্তর্বর্তী সরকার আত্মসমর্পণ করেছে।

শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার কোনো পর্যায়ে সংস্কার-প্রতিরোধী মহলকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করেনি। বরং এই অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়েছে।তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অভ্যন্তরে ও সরকারের পেছনের ক্ষমতার ভিত্তি বিবেচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের নামে অ্যাডহক ভিত্তিক বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কার-পরিপন্থী আইন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সব সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে সংগৃহীত অন্তর্বর্তী মেয়াদে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।’সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট এর সময় : ০৫:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক:

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশ উপেক্ষা করছে। সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।’

দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়া হলেও এসব আইনি কাঠামোর বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে। বরং সংস্কারের নামে পুরনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংস্কার উদ্যোগের শুরু থেকে সংস্কার-প্রতিরোধক অপশক্তির কাছে অন্তর্বর্তী সরকার আত্মসমর্পণ করেছে।

শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার কোনো পর্যায়ে সংস্কার-প্রতিরোধী মহলকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করেনি। বরং এই অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়েছে।তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অভ্যন্তরে ও সরকারের পেছনের ক্ষমতার ভিত্তি বিবেচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের নামে অ্যাডহক ভিত্তিক বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কার-পরিপন্থী আইন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সব সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে সংগৃহীত অন্তর্বর্তী মেয়াদে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।’সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।