Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জয় বাংলা’ বাঙালির মাথা উঁচু করার স্লোগান

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১১:১৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২
  • 1

অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সব অর্জনের মূলে থাকা ‘জয় বাংলা’কে তাঁর সরকার জাতীয় স্লোগান ঘোষণার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে যে বাঙালি মাথা নিচু করে নয়, বরং মাথা উঁচু করেই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই জয় বাংলা স্লোগানটা আজ সবার হয়েছে এবং এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা এটাই বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই—আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয় অর্জন করেছি, মাথা নত করে আমরা চলি না, মাথা নত করে চলব না, বিশ্বদরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করেই চলবে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার রাতে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয় বাংলা উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা তাঁর অন্যতম একটি শক্তি পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনায় বেঁচে যাওয়া তাঁর একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানার কথা উল্লেখ বলেন, ‘আমরা দুজনেই আজকে সব থেকে বেশি খুশি। কারণ এই জয় বাংলা স্লোগান এ দেশের মানুষকে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়ে দেশকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। যে স্লোগান দিয়ে এ দেশের মানুষ রক্তের অক্ষরে লিখে গেছে—আমি বিজয় আনতে চাই। বাংলাদেশের জয় হবে। আজকে সেই জয় বাংলা আমাদের সবার, এ দেশের মানুষের, বিজয়ী জাতির বাঙালি জাতির, আমাদের মাথা উঁচু করে চলার এ স্লোগান। ’

এই স্লোগান ধারণে তিনি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, কোনো ত্যাগ যে বৃথা যায় না আজকে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিএবি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্সের ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক কালোত্তীর্ণ ভাষণ সমাপ্ত করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে। সেই থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী কোটি কোটি জনতার প্রাণের স্লোগানে পরিণত হয়। নিরস্ত্র বাঙালি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা হয়ে যায় ‘জয় বাংলা’।

বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি নিয়েছিলেন।

২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট রায়  দেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ২ মার্চ ২০২২ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন  জারি করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান একসময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে হ্যাঁ, আমরা আওয়ামী লীগ যারা করি আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা আমরা ধরে রেখেছি, যারা এ দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযোদ্ধারা—তারা এটা ধরে রেখেছিল। ’

সূত্র : বাসস

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

‘জয় বাংলা’ বাঙালির মাথা উঁচু করার স্লোগান

আপডেট এর সময় : ১১:১৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২

অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সব অর্জনের মূলে থাকা ‘জয় বাংলা’কে তাঁর সরকার জাতীয় স্লোগান ঘোষণার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছে যে বাঙালি মাথা নিচু করে নয়, বরং মাথা উঁচু করেই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই জয় বাংলা স্লোগানটা আজ সবার হয়েছে এবং এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা এটাই বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই—আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয় অর্জন করেছি, মাথা নত করে আমরা চলি না, মাথা নত করে চলব না, বিশ্বদরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করেই চলবে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার রাতে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয় বাংলা উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা তাঁর অন্যতম একটি শক্তি পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনায় বেঁচে যাওয়া তাঁর একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানার কথা উল্লেখ বলেন, ‘আমরা দুজনেই আজকে সব থেকে বেশি খুশি। কারণ এই জয় বাংলা স্লোগান এ দেশের মানুষকে নিজের জীবনটা বিলিয়ে দিয়ে দেশকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। যে স্লোগান দিয়ে এ দেশের মানুষ রক্তের অক্ষরে লিখে গেছে—আমি বিজয় আনতে চাই। বাংলাদেশের জয় হবে। আজকে সেই জয় বাংলা আমাদের সবার, এ দেশের মানুষের, বিজয়ী জাতির বাঙালি জাতির, আমাদের মাথা উঁচু করে চলার এ স্লোগান। ’

এই স্লোগান ধারণে তিনি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, কোনো ত্যাগ যে বৃথা যায় না আজকে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিএবি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্সের ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক কালোত্তীর্ণ ভাষণ সমাপ্ত করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে। সেই থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী কোটি কোটি জনতার প্রাণের স্লোগানে পরিণত হয়। নিরস্ত্র বাঙালি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা হয়ে যায় ‘জয় বাংলা’।

বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি নিয়েছিলেন।

২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট রায়  দেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ২ মার্চ ২০২২ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন  জারি করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান একসময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে হ্যাঁ, আমরা আওয়ামী লীগ যারা করি আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা আমরা ধরে রেখেছি, যারা এ দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযোদ্ধারা—তারা এটা ধরে রেখেছিল। ’

সূত্র : বাসস