Dhaka ১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুণগত শিক্ষা ও সেবা সহজীকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য”:বাউবি উপাচার্য  

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১০:২৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • 1

--প্রেরিত ছবি

গাজীপুর প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং এর আওতাধীন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্টাডি সেন্টারের প্রোগ্রাম ভিত্তিক সমন্বয়কারীদের নিয়ে “শিক্ষা সেবা সহজীকরণ ও গুণগত মানোন্নয়ন” শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা আজ শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১০:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লেকচার গ্যালারীতে অনুষ্ঠিত হয়।

ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও মূখ্য আলোচক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা কার্যক্রম গড়ে তুলতে শিক্ষা সেবা সহজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা হবে আরও প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও আমরা সমাধানের পথে কাজ করছি। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় হুমকি—কারণ আমাদের আর্থিক টিকে থাকা মূলত প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভর্তি কার্যক্রম প্রচারে সমন্বয়কারী, টিউটর ও সকলকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত—তাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়া বা সেবা বিলম্ব করা অমানবিক। ক্লাস যথাযথভাবে নিতে হবে, পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং সেবাকে দ্রুত ও সহজ করতে হবে। আমরা আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, হেল্পলাইন চালু ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস জোরদারের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি। তবে শুধু প্রশাসনের নয়, সবার আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে। সেবা সহজীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল ও সময় ব্যবস্থাপনা, এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ফিডব্যাক গ্রহণ—এসবের সমন্বয়েই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নত হবে”। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা সেবার গুণগত মানোন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সবার প্রতিষ্ঠান। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় টিকবে, আর বিশ্ববিদ্যালয় টিকলে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম। তিনি বলেন, “আজকের আলোচনাগুলো কার্যকরভাবে মনে রাখতে বুকলেট বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ভর্তি থেকে ফলাফল পর্যন্ত সব তথ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে স্পষ্ট থাকে। বিল প্রক্রিয়া দ্রুত অনলাইনে সম্পন্ন করা এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত স্ক্রল নিউজে প্রচার করা জরুরি। প্রতিটি আরসি ও এসআরসির জনবল কাঠামো ফ্লোচার্ট আকারে নির্ধারণ করলে প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে। শিক্ষার্থীরা মানসম্মত সেবা ও অনুকূল পরিবেশ প্রত্যাশা করে। এজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে আরও কার্যকর করা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সেবার সময়সীমা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত করা দরকার”। এছাড়াও নিয়মিত ফিডব্যাক গ্রহণ, ইমেইল-প্রশ্নের দ্রুত জবাব এবং ভর্তি থেকে সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সম্পন্ন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের মূল শর্ত বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান। “শিক্ষা সেবা সহজীকরণ ও গুণগত মানোন্নয়ন” বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক জনাব টিএম আহমেদ হুসেইন। কর্মশালার সার্বিক সঞ্চালনা করেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম। আলোচ্য বিষয়ের উপর মতবিনিময় করেন, বিভিন্ন স্কুলের ডিনবৃন্দ, এসএসএস বিভাগের পরিচালক, কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, আইসিটি ইউনিট এর পরামর্শক ও প্রোগ্রাম ভিত্তিক সমন্বয়কারীবৃন্দ। কর্মশালায় রিপোরটিয়ার হিসেবে কাজ করেন, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান। বিভিন্ন স্কুলের ডিন ও শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহের পরিচালক, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন স্টাডি সেন্টারের প্রোগ্রাম ভিত্তিক সমন্বয়কারী, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কেন্দ্রাধীন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তাসহ মোট ৮৪ জন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

গুণগত শিক্ষা ও সেবা সহজীকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য”:বাউবি উপাচার্য  

আপডেট এর সময় : ১০:২৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুর প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং এর আওতাধীন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্টাডি সেন্টারের প্রোগ্রাম ভিত্তিক সমন্বয়কারীদের নিয়ে “শিক্ষা সেবা সহজীকরণ ও গুণগত মানোন্নয়ন” শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা আজ শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১০:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লেকচার গ্যালারীতে অনুষ্ঠিত হয়।

ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও মূখ্য আলোচক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা কার্যক্রম গড়ে তুলতে শিক্ষা সেবা সহজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা হবে আরও প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও আমরা সমাধানের পথে কাজ করছি। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় হুমকি—কারণ আমাদের আর্থিক টিকে থাকা মূলত প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভর্তি কার্যক্রম প্রচারে সমন্বয়কারী, টিউটর ও সকলকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত—তাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়া বা সেবা বিলম্ব করা অমানবিক। ক্লাস যথাযথভাবে নিতে হবে, পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং সেবাকে দ্রুত ও সহজ করতে হবে। আমরা আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, হেল্পলাইন চালু ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস জোরদারের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি। তবে শুধু প্রশাসনের নয়, সবার আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে। সেবা সহজীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল ও সময় ব্যবস্থাপনা, এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ফিডব্যাক গ্রহণ—এসবের সমন্বয়েই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নত হবে”। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা সেবার গুণগত মানোন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সবার প্রতিষ্ঠান। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় টিকবে, আর বিশ্ববিদ্যালয় টিকলে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম। তিনি বলেন, “আজকের আলোচনাগুলো কার্যকরভাবে মনে রাখতে বুকলেট বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ভর্তি থেকে ফলাফল পর্যন্ত সব তথ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে স্পষ্ট থাকে। বিল প্রক্রিয়া দ্রুত অনলাইনে সম্পন্ন করা এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত স্ক্রল নিউজে প্রচার করা জরুরি। প্রতিটি আরসি ও এসআরসির জনবল কাঠামো ফ্লোচার্ট আকারে নির্ধারণ করলে প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে। শিক্ষার্থীরা মানসম্মত সেবা ও অনুকূল পরিবেশ প্রত্যাশা করে। এজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে আরও কার্যকর করা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সেবার সময়সীমা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত করা দরকার”। এছাড়াও নিয়মিত ফিডব্যাক গ্রহণ, ইমেইল-প্রশ্নের দ্রুত জবাব এবং ভর্তি থেকে সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সম্পন্ন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের মূল শর্ত বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান। “শিক্ষা সেবা সহজীকরণ ও গুণগত মানোন্নয়ন” বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক জনাব টিএম আহমেদ হুসেইন। কর্মশালার সার্বিক সঞ্চালনা করেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম। আলোচ্য বিষয়ের উপর মতবিনিময় করেন, বিভিন্ন স্কুলের ডিনবৃন্দ, এসএসএস বিভাগের পরিচালক, কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, আইসিটি ইউনিট এর পরামর্শক ও প্রোগ্রাম ভিত্তিক সমন্বয়কারীবৃন্দ। কর্মশালায় রিপোরটিয়ার হিসেবে কাজ করেন, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান। বিভিন্ন স্কুলের ডিন ও শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহের পরিচালক, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন স্টাডি সেন্টারের প্রোগ্রাম ভিত্তিক সমন্বয়কারী, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কেন্দ্রাধীন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তাসহ মোট ৮৪ জন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।