Dhaka ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে ৮ হাজার টাকায় হত্যা, কচুরিপানার নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, ২ ঘাতক আটক

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১২:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 4

--প্রেরিত ছবি

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

‎‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিন। পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিলিং মিশনে মোট চারজন অংশ নেয়। অপর দুইজন পলাতক রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানা পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। পরে তার মা মোছা. কাকলী বেগম সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তকালে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। বিষয়টি সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলামকে জানানো হলে তার নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এসআই দীপঙ্কর দত্তসহ একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তার মা সদর থানায় হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।‎মামলার তদন্তের একপর্যায়ে যৌথ টিম মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া অপর অভিযুক্ত শাহিনের নাম বেরিয়ে আসে। পরে রাজৈর থানাধীন টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

“প্রেমঘটিত বিরোধে হত্যার পরিকল্পনা”

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত সৌরভ আহমেদ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তান রয়েছে এবং তারা মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন টেকেরহাটের তাঁতিকান্দি এলাকায় বসবাস করতেন। ‎পুলিশের দাবি, সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। বিষয়টি রবিউল স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। এরপর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শাহিনের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের শ্যালক সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভকে গাজীপুর থেকে কৌশলে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌরভকে হত্যা ও লাশ গুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

“চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ”

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রবিউল, শাহিন এবং শাহিনের দুই সহযোগী সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সৌরভকে একাধিক টুকরা করার পর তার মরদেহ কচুরিপানার নিচে গুম করা হয় বলে পুলিশের দাবি। ‎পরে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।‎ পুলিশ জানিয়েছে, কিলিং মিশনে মোট চারজন অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই সহযোগী পলাতক রয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম ও শাহিন স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এদিকে, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

গাজীপুরে ৮ হাজার টাকায় হত্যা, কচুরিপানার নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, ২ ঘাতক আটক

আপডেট এর সময় : ১২:০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

‎‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিন। পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিলিং মিশনে মোট চারজন অংশ নেয়। অপর দুইজন পলাতক রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানা পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। পরে তার মা মোছা. কাকলী বেগম সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তকালে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। বিষয়টি সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলামকে জানানো হলে তার নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এসআই দীপঙ্কর দত্তসহ একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তার মা সদর থানায় হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।‎মামলার তদন্তের একপর্যায়ে যৌথ টিম মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া অপর অভিযুক্ত শাহিনের নাম বেরিয়ে আসে। পরে রাজৈর থানাধীন টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

“প্রেমঘটিত বিরোধে হত্যার পরিকল্পনা”

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত সৌরভ আহমেদ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তান রয়েছে এবং তারা মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন টেকেরহাটের তাঁতিকান্দি এলাকায় বসবাস করতেন। ‎পুলিশের দাবি, সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। বিষয়টি রবিউল স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। এরপর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শাহিনের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের শ্যালক সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভকে গাজীপুর থেকে কৌশলে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌরভকে হত্যা ও লাশ গুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

“চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ”

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রবিউল, শাহিন এবং শাহিনের দুই সহযোগী সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সৌরভকে একাধিক টুকরা করার পর তার মরদেহ কচুরিপানার নিচে গুম করা হয় বলে পুলিশের দাবি। ‎পরে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।‎ পুলিশ জানিয়েছে, কিলিং মিশনে মোট চারজন অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই সহযোগী পলাতক রয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম ও শাহিন স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এদিকে, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।