Dhaka ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাকৃবিতে দ্রুত প্রজনন ও বছরব্যাপী ফসল উৎপাদনে অটোমেশন প্রযুক্তি নিয়ে কর্মশালা

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১১:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • 1

--প্রেরিত ছবি

মোঃ ইব্রাহীম খলিল
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) “নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত প্রজনন ও সারা বছর টেকসই ফসল উৎপাদনে উদ্ভাবনী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো, যার লক্ষ্য উন্নত অটোমেশন প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষিকে সমন্বয় করে ফসলের ব্রিডিং বা প্রজনন চক্রকে ত্বরান্বিত করা এবং বছরব্যাপী টেকসই ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা। আজ ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালাটি হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনকস গ্রুপের পরিচালনা ব্যবস্থাপক জনাব নাসিক আক্কাস। কর্মশালায় দেশের স্বনামধন্য কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারি, ব্রি, বিনা, লাল তীর, সুপ্রীম সীড, এসিআই সীড, ইস্ট-ওয়েস্ট সীড, প্যারামাউন্ট অ্যাগ্রো এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সহযোগী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম। পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান, যেখানে প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং গাকৃবির গবেষণাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পরবর্তীতে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গবেষণা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য বাস্তবতা। জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উদ্ভাবনী গবেষণা ও অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে আরও টেকসই, দক্ষ ও উৎপাদনশীল করবে। তিনি আরও বলেন, গাকৃবির গবেষণা কার্যক্রম জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কৃষি অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই প্রত্যাশা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। সবশেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত প্রত্যয় এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে। কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, যেখানে উদ্ভাবনী পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান বিনিময় এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা চিহ্নিত হবে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

গাকৃবিতে দ্রুত প্রজনন ও বছরব্যাপী ফসল উৎপাদনে অটোমেশন প্রযুক্তি নিয়ে কর্মশালা

আপডেট এর সময় : ১১:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ ইব্রাহীম খলিল
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) “নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত প্রজনন ও সারা বছর টেকসই ফসল উৎপাদনে উদ্ভাবনী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো, যার লক্ষ্য উন্নত অটোমেশন প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষিকে সমন্বয় করে ফসলের ব্রিডিং বা প্রজনন চক্রকে ত্বরান্বিত করা এবং বছরব্যাপী টেকসই ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা। আজ ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালাটি হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনকস গ্রুপের পরিচালনা ব্যবস্থাপক জনাব নাসিক আক্কাস। কর্মশালায় দেশের স্বনামধন্য কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারি, ব্রি, বিনা, লাল তীর, সুপ্রীম সীড, এসিআই সীড, ইস্ট-ওয়েস্ট সীড, প্যারামাউন্ট অ্যাগ্রো এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সহযোগী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম। পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান, যেখানে প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং গাকৃবির গবেষণাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পরবর্তীতে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গবেষণা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য বাস্তবতা। জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উদ্ভাবনী গবেষণা ও অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে আরও টেকসই, দক্ষ ও উৎপাদনশীল করবে। তিনি আরও বলেন, গাকৃবির গবেষণা কার্যক্রম জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কৃষি অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই প্রত্যাশা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। সবশেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত প্রত্যয় এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে। কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, যেখানে উদ্ভাবনী পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান বিনিময় এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা চিহ্নিত হবে।