Dhaka ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা থেকে শুরু ধাওয়া, ৪০ কিমি বাস চালিয়ে যাত্রীদের রক্ষা

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০৪:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • 2

--সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্কঃ

ঢাকা থেকে ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল একুশে পরিবহনের একটি বাস। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হলেই একদল লোকের টার্গেটে পড়ে বাসটি। ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে বাসটিকে ধাওয়া দেয় তারা। প্রায় ৪০ কিলোমিটার ধাওয়া দিয়ে বাসটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন তারা।

গত সোমবার মধ্যরাতের এ ঘটনায় বাসচালক মো. সোহেলের চোয়াল থেঁতলে গেছে। মাথা ও চোয়ালে লেগেছে ৩১টি সেলাই। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত।

বাসটির সহকারী মোহাম্মদ রাহাত জানান, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হতেই ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে।

রাহাত জানান, দুই দফা ইট ছুঁড়ে মারা হয়। এতে চালকের মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাস চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে পথে কোনো যাত্রীকে নামতে দিইনি। বাসটি সরাসরি নোয়াখালী সুধারাম থানার সামনে গেলে সব যাত্রী দ্রুত থানায় ঢুকে পড়ে।

চালকের ছোট ভাই মেহেদী হাসান জানান, তার ভাইয়ের (বাসচালক) চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা বাসমালিক দিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

বাসের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরে সুধারাম মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে যাই কিন্তু সুধারাম মডেল থানা থেকে সোনাইমুড়ী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানা থেকে আবার লাকসাম থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জহিরুল ইসলাম বলেন, হামলায় আহত বাসচালক সোহেলের মাথা ও চোয়ালে ৩১টি সেলাই লেগেছে। বাসে থাকা ৩৮ যাত্রীর মধ্যে নারী ও শিশু ছিল।

ডাকাতি নয়, মোটরসাইকেল আরোহীদের সাইড দেওয়া নিয়ে এমনটি হতে পারে জানিয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম বলেন, ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকলে তারা একটি বাসকে ৪০ কিলোমিটার রাস্তা কেন ধাওয়া করবে? এই রুটে অনেক গাড়ি চলাচল করে, গত পাঁচ বছরে কোনো বাস ডাকাতির ঘটনা পাওয়া যায়নি। মোটরসাইকেল আরোহীদের সাইড দেওয়া নিয়ে বাসচালকের দ্বন্দ্বের জেরেও এমনটি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা এই রুটের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাজ করছে। এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

কুমিল্লা থেকে শুরু ধাওয়া, ৪০ কিমি বাস চালিয়ে যাত্রীদের রক্ষা

আপডেট এর সময় : ০৪:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
অনলাইন ডেস্কঃ

ঢাকা থেকে ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল একুশে পরিবহনের একটি বাস। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হলেই একদল লোকের টার্গেটে পড়ে বাসটি। ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে বাসটিকে ধাওয়া দেয় তারা। প্রায় ৪০ কিলোমিটার ধাওয়া দিয়ে বাসটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন তারা।

গত সোমবার মধ্যরাতের এ ঘটনায় বাসচালক মো. সোহেলের চোয়াল থেঁতলে গেছে। মাথা ও চোয়ালে লেগেছে ৩১টি সেলাই। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত।

বাসটির সহকারী মোহাম্মদ রাহাত জানান, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হতেই ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে।

রাহাত জানান, দুই দফা ইট ছুঁড়ে মারা হয়। এতে চালকের মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাস চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে পথে কোনো যাত্রীকে নামতে দিইনি। বাসটি সরাসরি নোয়াখালী সুধারাম থানার সামনে গেলে সব যাত্রী দ্রুত থানায় ঢুকে পড়ে।

চালকের ছোট ভাই মেহেদী হাসান জানান, তার ভাইয়ের (বাসচালক) চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা বাসমালিক দিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

বাসের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরে সুধারাম মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে যাই কিন্তু সুধারাম মডেল থানা থেকে সোনাইমুড়ী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানা থেকে আবার লাকসাম থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জহিরুল ইসলাম বলেন, হামলায় আহত বাসচালক সোহেলের মাথা ও চোয়ালে ৩১টি সেলাই লেগেছে। বাসে থাকা ৩৮ যাত্রীর মধ্যে নারী ও শিশু ছিল।

ডাকাতি নয়, মোটরসাইকেল আরোহীদের সাইড দেওয়া নিয়ে এমনটি হতে পারে জানিয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম বলেন, ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকলে তারা একটি বাসকে ৪০ কিলোমিটার রাস্তা কেন ধাওয়া করবে? এই রুটে অনেক গাড়ি চলাচল করে, গত পাঁচ বছরে কোনো বাস ডাকাতির ঘটনা পাওয়া যায়নি। মোটরসাইকেল আরোহীদের সাইড দেওয়া নিয়ে বাসচালকের দ্বন্দ্বের জেরেও এমনটি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা এই রুটের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাজ করছে। এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।