Dhaka ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাবাগান থানাকে বিকল্প জায়গা খুঁজতে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১০:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২
  • 1

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর কলাবাগান থানাকে তেঁতুলতলা মাঠের বিকল্প জায়গা খোঁজার কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর মাঠের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ঈদবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডিসি জায়গাটি খাস জমি বলে চিহ্নিত করে কলাবাগান থানাকে বরাদ্দ দিয়েছে।

সব প্রক্রিয়া শেষে যখন ভবন নির্মাণ করতে যায়, তখন খেলার মাঠের দাবিতে এর প্রতিবাদ জানায়। আমাদের মেয়র বলেছেন, এই জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিতে। আমরা মনে করি, খেলার মাঠে বাচ্চারা খেলাধুলা করবে এটাই স্বাভাবিক। খেলার মাঠ যেন থাকে, সে জন্য আমরা মনে করি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। মেয়রকে বলেছি, সবাইকে বলেছি বিকল্প একটা খোঁজার জন্য। যদি না হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও এটা অতীবও জরুরি। এটা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব, কি করা যায়।

এর আগে গতকাল রবিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার অন্যতম আন্দোলনকারী ও সমাজকর্মী সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলে ঈসা আব্দুল্লাহকে (১৭) গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ওইদিন সকালে মাঠে কলাবাগান থানা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে সৈয়দা রত্না ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে আটক করা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পান্থপথে কনকর্ড টাওয়ারের সামনে কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে ‘কলাবাগান এলাকাবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। ওই মানববন্ধনে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।

মানববন্ধনে এলাকাবাসী জানিয়েছিল, শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি এই মাঠে ঈদের নামাজ, জানাজা ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন করা হয়। স্থানীয় লোকজন জায়গাটি মাঠ হিসেবেই ব্যবহার করে আসছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দা রত্না বলেছিলেন, মাঠটি রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কার্যালয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এলাকার সংসদ সদস্য আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু এখন শিশুদের যাতায়াতই বন্ধ হয়ে গেল।

গত ৩১ জানুয়ারি ওই মাঠে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে পুলিশ। সেদিন মাঠে খেলতে যাওয়া কয়েকটি শিশুর কান ধরে উঠবস করান পুলিশ সদস্যরা। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকা জেলা প্রশাসন এক নোটিশে জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের কলাবাগান থানার নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য এই সম্পত্তি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই নোটিশে এই জমিকে পতিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় লোকজন জায়গাটিকে মাঠ হিসেবেই রাখতে প্রতিবাদ করে আসছিল।

 

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

কলাবাগান থানাকে বিকল্প জায়গা খুঁজতে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ১০:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর কলাবাগান থানাকে তেঁতুলতলা মাঠের বিকল্প জায়গা খোঁজার কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর মাঠের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ঈদবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডিসি জায়গাটি খাস জমি বলে চিহ্নিত করে কলাবাগান থানাকে বরাদ্দ দিয়েছে।

সব প্রক্রিয়া শেষে যখন ভবন নির্মাণ করতে যায়, তখন খেলার মাঠের দাবিতে এর প্রতিবাদ জানায়। আমাদের মেয়র বলেছেন, এই জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিতে। আমরা মনে করি, খেলার মাঠে বাচ্চারা খেলাধুলা করবে এটাই স্বাভাবিক। খেলার মাঠ যেন থাকে, সে জন্য আমরা মনে করি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। মেয়রকে বলেছি, সবাইকে বলেছি বিকল্প একটা খোঁজার জন্য। যদি না হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও এটা অতীবও জরুরি। এটা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব, কি করা যায়।

এর আগে গতকাল রবিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার অন্যতম আন্দোলনকারী ও সমাজকর্মী সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলে ঈসা আব্দুল্লাহকে (১৭) গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ওইদিন সকালে মাঠে কলাবাগান থানা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে সৈয়দা রত্না ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে আটক করা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পান্থপথে কনকর্ড টাওয়ারের সামনে কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে ‘কলাবাগান এলাকাবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। ওই মানববন্ধনে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।

মানববন্ধনে এলাকাবাসী জানিয়েছিল, শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি এই মাঠে ঈদের নামাজ, জানাজা ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন করা হয়। স্থানীয় লোকজন জায়গাটি মাঠ হিসেবেই ব্যবহার করে আসছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দা রত্না বলেছিলেন, মাঠটি রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কার্যালয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এলাকার সংসদ সদস্য আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু এখন শিশুদের যাতায়াতই বন্ধ হয়ে গেল।

গত ৩১ জানুয়ারি ওই মাঠে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে পুলিশ। সেদিন মাঠে খেলতে যাওয়া কয়েকটি শিশুর কান ধরে উঠবস করান পুলিশ সদস্যরা। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকা জেলা প্রশাসন এক নোটিশে জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের কলাবাগান থানার নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য এই সম্পত্তি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই নোটিশে এই জমিকে পতিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় লোকজন জায়গাটিকে মাঠ হিসেবেই রাখতে প্রতিবাদ করে আসছিল।

 

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন