Dhaka ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসুস্থতার নাটক, ফাঁকা চেক—সোনা নিয়ে পালানোর অভিযোগ জহিরের বিরুদ্ধে

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০২:৩৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 3

--প্রতারক জহির

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ‎ ‎

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবের ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এস এম হাসান জহির তার পরিবারের দুই ভরি সোনা গহনা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। রফিকুল ইসলামের পিতা পশর মাহমূদ এবং স্ত্রী শাম্মি আক্তার রুমি। ‎ ‎রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই জহির নিজেকে গুরুতর অসুস্থ দাবি করে বলেন, আমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিলে আমি বাঁচবো না। এ সময় বিশ্বাস অর্জনের উদ্দেশ্যে জহির রফিকুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকার একটি ব্যাংক চেক দেন এবং বলেন, চোর ধরা পড়লে ওই টাকা ফেরত দেবেন। পাশাপাশি তিনি আগামী মাসের ৫ তারিখে ফিরে আসবেন বলেও আশ্বাস দেন। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই চেকে কোনো টাকা নেই। রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই জহির পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজিয়েছিলেন। ‎ ‎ ‎রফিকুল আরও জানান, গত বছর তিনি প্রতিবেশী আরিফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। সেই সূত্রেই এস এম হাসান জহিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে জহির পরিবারের সোনা গহনা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। রফিকুল ইসলামের দাবি, পালিয়ে যেতে আরিফ হোসেনের বোনের স্বামী এনায়েত হোসেন জহিরকে সহায়তা করেছেন। ‎ ‎ ‎এদিকে, জগতবের এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জহির প্রথমে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলত। এরপর সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা ও সোনা গহনা নিয়ে পালিয়ে যেত। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, জহির বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে মিশত। কখনো নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য, কখনো ব্যবসায়ী, আবার কখনো সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দিত। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ‎ ‎ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, এস এম হাসান জহির দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জানা গেছে, অভিযুক্ত জহিরের বাড়ি যশোর জেলায়। ‎ ‎ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত জহিরসহ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ‎

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

অসুস্থতার নাটক, ফাঁকা চেক—সোনা নিয়ে পালানোর অভিযোগ জহিরের বিরুদ্ধে

আপডেট এর সময় : ০২:৩৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ‎ ‎

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবের ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এস এম হাসান জহির তার পরিবারের দুই ভরি সোনা গহনা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। রফিকুল ইসলামের পিতা পশর মাহমূদ এবং স্ত্রী শাম্মি আক্তার রুমি। ‎ ‎রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই জহির নিজেকে গুরুতর অসুস্থ দাবি করে বলেন, আমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিলে আমি বাঁচবো না। এ সময় বিশ্বাস অর্জনের উদ্দেশ্যে জহির রফিকুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকার একটি ব্যাংক চেক দেন এবং বলেন, চোর ধরা পড়লে ওই টাকা ফেরত দেবেন। পাশাপাশি তিনি আগামী মাসের ৫ তারিখে ফিরে আসবেন বলেও আশ্বাস দেন। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই চেকে কোনো টাকা নেই। রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই জহির পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজিয়েছিলেন। ‎ ‎ ‎রফিকুল আরও জানান, গত বছর তিনি প্রতিবেশী আরিফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। সেই সূত্রেই এস এম হাসান জহিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে জহির পরিবারের সোনা গহনা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। রফিকুল ইসলামের দাবি, পালিয়ে যেতে আরিফ হোসেনের বোনের স্বামী এনায়েত হোসেন জহিরকে সহায়তা করেছেন। ‎ ‎ ‎এদিকে, জগতবের এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জহির প্রথমে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলত। এরপর সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা ও সোনা গহনা নিয়ে পালিয়ে যেত। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, জহির বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে মিশত। কখনো নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য, কখনো ব্যবসায়ী, আবার কখনো সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দিত। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ‎ ‎ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, এস এম হাসান জহির দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জানা গেছে, অভিযুক্ত জহিরের বাড়ি যশোর জেলায়। ‎ ‎ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত জহিরসহ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ‎