Dhaka ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার এতিম শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব নিলেন শিহাব আহমেদ

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ১১:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 2

--প্রেরিত ছবি

‎ মেহেরুবান হাবিব
 লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
‎লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মানবিক দৃশ্যের জন্ম দিলেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা-অযত্নে বড় হতে থাকা চার এতিম শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। শিশুদের চোখে-মুখে বহুদিন পর ভরসার আলো দেখা যায়, আর তাদের জীবনের বাস্তবতা দেখে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিহাব।
‎বৃহস্পতিবার উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকায় চার শিশুর বাড়িতে যান তিনি। তাদের খোঁজখবর নেন, পাশে বসেন, কথা শুনেন। এরপর শিশুদের হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে জানান এটি কেবল শুরু, তিনি সমস্ত মাসিক ব্যয় বহন করবেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সিপাড়ার সাফিউল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম প্রথমে এক কন্যা সন্তানের মা হন। পরে একসঙ্গে তিনটি সন্তান জন্ম দেন-দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তান জন্মের মাত্র দুই মাস পর শাপলা বেগম মারা যান। এরপর সাফিউল ঢাকায় গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং চার সন্তানের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে যান।
‎বর্তমানে চার শিশুকে দেখাশোনা করেন তাদের দাদা-দাদি বৃদ্ধ আবেদ আলী ও সাহিদা বেগম। অভাব-অনটনে জীবন কাটালেও তাদের হাত ছাড়েননি তারা।
‎আবেদ আলী বলেন, ‘ছেলের কোনো খোঁজ নেই। বাচ্চাগুলারে লইয়া কষ্ট করে দিন পার করি। কেউ সাহায্য করে না। আজ শিহাব সব দায়িত্ব নিয়েছে আল্লাহ তার মঙ্গল করুক।’
‎সাহিদা বেগম বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে চলি। শিহাব আজ না এলে হয়তো না খেয়েই থাকতে হতো। শিশুদের এই কষ্টের কথা শুনে নিজেকে সামলাতে পারেননি শিহাব আহমেদ। আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন,আমি ছোট থাকতে মাকে হারিয়েছি এতিমের কষ্ট কী আমি খুব ভালো জানি।
‎স্থানীয় একজন বলেন,মানবিক এই ঘটনার পর এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর অবহেলিত থাকা এই চার শিশুর জীবনে শিহাব আহমেদ নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছেন।
‎লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শিহাব আহমেদ বক্তব্যে বলেন, আজ থেকে তাদের সব দায়িত্ব আমি নিলাম। প্রতি মাসে তাদের সব খরচ আমি দেব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

চার এতিম শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব নিলেন শিহাব আহমেদ

আপডেট এর সময় : ১১:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
‎ মেহেরুবান হাবিব
 লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
‎লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মানবিক দৃশ্যের জন্ম দিলেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা-অযত্নে বড় হতে থাকা চার এতিম শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। শিশুদের চোখে-মুখে বহুদিন পর ভরসার আলো দেখা যায়, আর তাদের জীবনের বাস্তবতা দেখে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিহাব।
‎বৃহস্পতিবার উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকায় চার শিশুর বাড়িতে যান তিনি। তাদের খোঁজখবর নেন, পাশে বসেন, কথা শুনেন। এরপর শিশুদের হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে জানান এটি কেবল শুরু, তিনি সমস্ত মাসিক ব্যয় বহন করবেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সিপাড়ার সাফিউল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম প্রথমে এক কন্যা সন্তানের মা হন। পরে একসঙ্গে তিনটি সন্তান জন্ম দেন-দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তান জন্মের মাত্র দুই মাস পর শাপলা বেগম মারা যান। এরপর সাফিউল ঢাকায় গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং চার সন্তানের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে যান।
‎বর্তমানে চার শিশুকে দেখাশোনা করেন তাদের দাদা-দাদি বৃদ্ধ আবেদ আলী ও সাহিদা বেগম। অভাব-অনটনে জীবন কাটালেও তাদের হাত ছাড়েননি তারা।
‎আবেদ আলী বলেন, ‘ছেলের কোনো খোঁজ নেই। বাচ্চাগুলারে লইয়া কষ্ট করে দিন পার করি। কেউ সাহায্য করে না। আজ শিহাব সব দায়িত্ব নিয়েছে আল্লাহ তার মঙ্গল করুক।’
‎সাহিদা বেগম বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে চলি। শিহাব আজ না এলে হয়তো না খেয়েই থাকতে হতো। শিশুদের এই কষ্টের কথা শুনে নিজেকে সামলাতে পারেননি শিহাব আহমেদ। আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন,আমি ছোট থাকতে মাকে হারিয়েছি এতিমের কষ্ট কী আমি খুব ভালো জানি।
‎স্থানীয় একজন বলেন,মানবিক এই ঘটনার পর এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর অবহেলিত থাকা এই চার শিশুর জীবনে শিহাব আহমেদ নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছেন।
‎লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শিহাব আহমেদ বক্তব্যে বলেন, আজ থেকে তাদের সব দায়িত্ব আমি নিলাম। প্রতি মাসে তাদের সব খরচ আমি দেব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।