মেহেরুবান হাবিব
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সীমান্তে জোরদার নজরদারির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ গভীর রাতে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীনস্থ দুর্গাপুর বিওপি’র একটি টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গভীর রাতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা : বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ৫৫ মিনিটে সীমান্ত পিলার ৯২৫/৫-এস সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, আদিতমারী উপজেলার কাউয়ারচর এলাকায় ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তির পরিচয় : আটককৃত ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ কুমার দাস (২৫)।
পিতা: অপু দাস
গ্রাম: শিববাড়ী চেচাখাতা
ডাকঘর: আলিপুর দুয়ার
থানা ও জেলা: আলিপুর দুয়ার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
আটকের সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশি ৮২০ টাকা, ভারতীয় ৮০০ রুপি এবং একটি ভারতীয় আধার কার্ডের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।
কী উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ? স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—গভীর রাতে সীমান্ত পেরিয়ে ওই ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল? বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে এটিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, এর পেছনে কোনো চোরাচালান বা দালাল চক্র জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
বিজিবির বক্তব্য : এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “আটককৃত ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাকে আদিতমারী থানায় হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পারাপার রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ : বিশেষজ্ঞদের মতে, লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির ফলে এসব তৎপরতা অনেকাংশে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই তৎপরতা স্থানীয় জনগণের মাঝেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।











