যুদ্ধের ময়দানে অন্য দেশের বাহিনীর পোশাকে ‘প্রক্সি যোদ্ধা’ হিসেবে যুদ্ধ করতে দেখা যায় ভিনদেশি তরুণদের। বাংলাদেশে এমন সম্মুখযোদ্ধা প্রক্সি ফোর্স না থাকলেও সড়কের আতঙ্ক হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ চক্র। যাদের কাছে র্যাব বা ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, পিস্তল, ওয়াকিটকিসহ সবই আছে। দেখতে হুবহু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আভিযানিক দলের মতোই।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের ভয় ও আস্থাকে কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব অপরাধী চক্র।
মামলা বেশি, ভাগও বেশি : ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে রাজধানীর মাটিকাটার ১১৮/৪ নম্বর বিক্রমপুর কটেজের দ্বিতীয় তলা থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইলসহ ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে ১২-১৩ জনের একটি দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্র। সম্প্রতি এই ডাকাত দলের অন্যতম হোতা ১৭ মামলার আসামি আলী হোসেন ওরফে চোরা আলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জানা গেছে তাদের রেকি টিম সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসা টার্গেট করে অপারেশনাল টিমকে সেখানে সহজে যেতে সড়কে বিভিন্ন সংকেত এঁকে দিয়ে আসে। কোনো বাসায় লুটের পর ভাগবাঁটোয়ারার ক্ষেত্রে যার নামে মামলা বেশি, তাকে বেশি ভাগ দেওয়া হতো। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ভাষানটেক বস্তির বিভিন্ন নারীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে। তা-ও একটি সিমে ১৫-২০ মিনিটের বেশি কথা বলা হয় না। এদিকে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, এসব চক্র কৌশল পরিবর্তন, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ছোট ছোট সংগঠিত গ্রুপে কাজ করায় সম্পূর্ণ নির্মূল করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব চক্রকে নির্মূল করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ আরও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন












