বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, মানুষ হিসেবে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ মিডিয়ার সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন ভাতা দেন না। অথচ ওয়েজবোর্ডে বেতন দেওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন নেন। এসব পত্রিকার মালিকদের বিরুদ্ধে ইউনিয়নকে সক্রিয় হতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রম-শ্রমিক এই দুয়ের ওপরেই গড়ে উঠেছে আজকের আধুনিক সভ্যতা। সভ্যতার বিকাশে শ্রমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তারাই পায় না শ্রমের মর্যাদা। অবহেলায় কাটে তাদের দিন। প্রাপ্য মর্যাদাও জোটে না কখনো কখনো।
তিনি বলেন, যেকোনো শ্রমিক কিংবা একজন কর্মজীবীর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটছে অনেক ক্ষেত্রে। কর্মজীবী, বিশেষ করে শ্রমিকের নিরাপত্তাহানিজনিত মর্মস্পর্শী অনেক ঘটনার নজির আমাদের সামনে রয়েছে। একেকটি ঘটনার পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলোর তরফে অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত হয়েছে—কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এর প্রতিফলন যথাযথভাবে ঘটেনি।
যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা, আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য শেখ হাসিনা সরকার যেমন দায়ী, আমাদের সাংবাদিক নেতারাও কম দায়ী নন। এই চারটি পত্রিকা পুনরায় চালু করতে হবে। এতে অন্তত ১৫ শ সাংবাদিক চাকরির সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, ওই চারটি পত্রিকায় ভিন্নমতের (বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী) সাংবাদিকদের প্রাধান্য ছিল বলেই পরিকল্পিতভাবে এসব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে শত শত সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন।
বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় মুখ্য আলোচকের ভাষণ দেন যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, একেএম মহসিন, খায়রুল বাশার, এরফানুল হক নাহিদ, আবু বকর, বাবুল তালুকদার, শাহজান সাজু, রফিক মুহাম্মদ, মোদাব্বের হোসেন, দিদারুল আলম, শাহনাজ পলি, খন্দকার আলমগীর, এম মোশাররফ হোসেন, তালুকদার রুমি, আবদুল্লাহ মজুমদার, নিজাম উদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ প্রমুখ।











