Dhaka ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মব’ শব্দ প্রয়োগে সতর্ক করলেন চিফ প্রসিকিউটর, ‘থ্রেট’ বললেন প্রিন্স

  • Syed Enamul Huq
  • আপডেট এর সময় : ০১:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • 2

--চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক:

‘মব’ শব্দ ব্যবহার করে সুকৌশলে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এই শব্দ প্রয়োগের আগে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে তার এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজনীতিবিদরা। এমন মন্তব্যকে থ্রেট হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা।

আজ রবিবার সকালে ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক এক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

কিন্তু বক্তব্য শেষ করে তাজুল ইসলাম ওই অনুষ্ঠানের স্থান থেকে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স তার মন্তব্যকে ‘থ্রেট’ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি আইনের শাসন চান আবার মবকে উস্কান। তার মানে কী এইটা। নো এইটা বাংলাদেশে চলবে না। এইটা যদি চালাইতে চান আইনের শাসন চলতে পারে না।’ বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজও চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মব শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই আমাদেরকে খুব সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। বাস্তিল দূর্গের পতনকে আপনি রাস্তার ছিনতাইকারীর মবকে একসাথে মেলাতে পারবেন না।

গণভবনের পতনের এই বিপ্লবের যে অর্জন সেইটার সাথে মব শব্দটা বারবার ব্যবহার করে এই বিপ্লবীদেরকে অথবা বিপ্লব যারা করেছে তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো চেষ্টা যদি কোনো মহলের থাকে আমি বলবে যে সবারই সংযত হওয়া উচিত। এটা কখনো করবেন না।’যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে সেগুলোর কঠোর হাতে দমন করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারণ জাতির ইতিহাসে সোনালী অর্জনগুলো যেভাবে এসেছে সেগুলোকে সুকৌশলে সূক্ষ্মভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশ একটা নতুন ডাইমেনশনে প্রবেশ করেছে, আমরা সেই জায়গা থেকে রাস্তায় যারা ভায়োলেন্স সৃষ্টি করবে কোনো কারণ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সেটাকে অবশ্যই কঠোর হাতে দমন করতে হবে। কিন্তু পাশাপাশি বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো আয়োজন এটাও কিন্তু বরদাস্ত করা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি ‘মব’ প্রসঙ্গ তুলে এটি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন রাজনীতিবিদরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় খবর

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

‘মব’ শব্দ প্রয়োগে সতর্ক করলেন চিফ প্রসিকিউটর, ‘থ্রেট’ বললেন প্রিন্স

আপডেট এর সময় : ০১:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক:

‘মব’ শব্দ ব্যবহার করে সুকৌশলে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এই শব্দ প্রয়োগের আগে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে তার এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজনীতিবিদরা। এমন মন্তব্যকে থ্রেট হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা।

আজ রবিবার সকালে ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক এক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

কিন্তু বক্তব্য শেষ করে তাজুল ইসলাম ওই অনুষ্ঠানের স্থান থেকে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স তার মন্তব্যকে ‘থ্রেট’ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি আইনের শাসন চান আবার মবকে উস্কান। তার মানে কী এইটা। নো এইটা বাংলাদেশে চলবে না। এইটা যদি চালাইতে চান আইনের শাসন চলতে পারে না।’ বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজও চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মব শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই আমাদেরকে খুব সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। বাস্তিল দূর্গের পতনকে আপনি রাস্তার ছিনতাইকারীর মবকে একসাথে মেলাতে পারবেন না।

গণভবনের পতনের এই বিপ্লবের যে অর্জন সেইটার সাথে মব শব্দটা বারবার ব্যবহার করে এই বিপ্লবীদেরকে অথবা বিপ্লব যারা করেছে তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো চেষ্টা যদি কোনো মহলের থাকে আমি বলবে যে সবারই সংযত হওয়া উচিত। এটা কখনো করবেন না।’যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে সেগুলোর কঠোর হাতে দমন করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারণ জাতির ইতিহাসে সোনালী অর্জনগুলো যেভাবে এসেছে সেগুলোকে সুকৌশলে সূক্ষ্মভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশ একটা নতুন ডাইমেনশনে প্রবেশ করেছে, আমরা সেই জায়গা থেকে রাস্তায় যারা ভায়োলেন্স সৃষ্টি করবে কোনো কারণ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সেটাকে অবশ্যই কঠোর হাতে দমন করতে হবে। কিন্তু পাশাপাশি বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো আয়োজন এটাও কিন্তু বরদাস্ত করা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি ‘মব’ প্রসঙ্গ তুলে এটি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন রাজনীতিবিদরা।