রংপুর ব্যুরোঃ
দেশে যখন পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিকের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে, রাস্তা—ঘাটে, খালে—বিলে প্লাস্টিক জমে থাকার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই যখন জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। অপরদিকে দেশের মাটিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ২৫% গাছ—পালা থাকা প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ১৭% এর মত রয়েছে। মানুষ গাছপালা কেটে বড় বড় বিল্ডিং নির্মাণ করছে এবং দেশে জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। যার ফলে দেশে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এসব বিবেচনায় ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করা হয়েছে— ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ প্রদান’।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ‘প্লাস্টিক দাও, গাছ নাও — সবুজ পৃথিবী গড়ে নাও’ এমন স্লোগানে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি করেন সামাজিক সংগঠন অন্বেষণ। এই আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, নর্মেটিভ এবং রংপুর মহানগর নার্সারী মালিক সমিতি, রংপুর।
গত ২৫ জুন পরিবেশ অধিদপ্তর—রংপুর এর আয়োজন “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” উদযাপনের পরের দিনই জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্বেষণের এমন ব্যতিক্রম আয়োজন রীতিমতো সারা ফেলেছে।
কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া জাহিন মিতু বলেন, আমরা খবর পেলাম এখানে প্লাস্টিকের মাধ্যমে গাছ বিতরণ করা হবে, তাই আমাদের হলের আশেপাশে পরে থাকা প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নিয়ে আসছি, যাতে করে আমাদের হলের পরিবেশটাও ঠিক থাকে, এদিকে প্লাস্টিকের বিনিময়ে পরিবেশ বান্ধব গাছও পেলাম। এই উদ্যোগ অত্যন্ত চমৎকার, আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন বলেন, আমি যখন আমার বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারলাম এইরকম একটি উদ্যোগ, আমি আগ্রহ ভরে এখানে আসলাম। কেননা এই উদ্যোগ, যে হারে প্লাস্টিকের পরিমাণ বেড়ে গেছে সেটিকে রিডিউস করতেছে, পাশাপাশি আমি একটি গাছ লাগাতে পারছি। আর একটা গাছ থেকে কি পরিমান সুবিধা পাওয়া যায় ? তা আমরা প্রত্যেকেই জানি। এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে হারে কাজে লাগে, যে হারে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, আমরা জানি এটা কতটা ভয়ংকর ।
সেক্ষেত্রে আমরা যদি গাছ লাগাই তাহলে সে গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন পাচ্ছি, পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমাচ্ছে। তো এটা খুব ভালো একটা উদ্যোগ, আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে, আমি একটি গাছ নিয়ে যাচ্ছি। কুড়িগ্রাম থেকে আসা আইনুল ইসলাম বলেন, আমি প্লাস্টিক এখানে দিলাম, কারণ প্লাস্টিক একটি ক্ষতিকর বস্তু, এটি দিয়ে আমি পরিবেশ বান্ধব গাছ সংগ্রহ করলাম, আমার কাছে খুব ভালো লাগলো।
অন্বেষণের ফাউন্ডার রেজওয়ানুল হক সকালবেলাকে বলেন, আমাদের দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহারটা বেড়ে যাচ্ছে, রাস্তাঘাটে চলতে গেলে দেখা যাচ্ছে প্লাস্টিক পড়ে আছে, চলতে চলতে খাল—বিলে প্লাস্টিক ফেলে দিচ্ছি, সেগুলো সেখানে জমা হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, এর ফলে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হলে পানি জমছে। অপরদিকে আমরা বিভিন্ন গাছপালা কেটে বিল্ডিং নির্মাণ করছি যার কারণে আমাদের দেশে অনেক গাছ কমে যাচ্ছে, এভাবেই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
তাই এই দূষণকে কমিয়ে আনতে হলে আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। যাতে করে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। মূলত এ কারণেই আমরা এই ছোট একটি উদ্যোগ নিয়েছি— ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ’। রাস্তার আশেপাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিক এখানে যারা আনছে তাদেরকে আমরা একটি করে পরিবেশ বান্ধব (বনজ—ফলজ —ঔষধি) গাছ উপহার দিচ্ছি।
এসময় অন্বেষণের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা: আহসান কবীর, আদনান শাহরিয়ার, ওয়াদুদ জামান ওয়াসিফ, পরিচালক (ইভেন্ট) আল শামস সিয়াম,পরিচালক (দপ্তর) মুনতাছির সম্পদ, পরিচালক (প্রযুক্তি)আবু রায়হান, সেচ্ছাসেবক মিজান, গালিব, রাশেদ, সহযোগী সংগঠনের: রংপুর মহানগর নার্সারি মালিক সমিতির সহ—সভাপতি মহিববুর রশীদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক নুর আলম সরকার নুর,
নরমেটিভ এর সভাপতি শাহেদ হাসান রুপম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদমান সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।















Leave a Reply