বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঈদ পুনর্মিলনী ও চিত্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, হংকং কর্তৃক হংকং—এ অবস্থানরত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ পুনর্মিলনী ও চিত্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হয়েছে। রবিবার (২৯ জুন) হংকংস্থ তাই—পো ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে ঈদ পুনর্মিলনী ও চিত্ত বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল, হংকং কর্তৃক হংকং—এ কর্মরত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের (নারী ও পুরুষ কমীর্) জন্য হংকংয়ের তাই—পো ওয়াটারফ্রন্ট পার্কের মনোরম পরিবেশে ঈদ পুনর্মিলনী—২০২৫ ও চিত্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রথম সচিব (শ্রম) জাহিদুর রহমান—এঁর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, হংকং এর কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব হংকং এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ, হংকং এর সি.আই.পি এবং এন.আর.বি.সি.আই.পি এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, হংকংস্থ বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সীর প্রতিনিধিবৃন্দ, নিয়োগকর্তা, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা— কর্মচারী এবং শতাধিক নারী ও পুরুষ কমীর্ উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা তাদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন ফান—গেম এ অংশগ্রহণ করেন। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় কমীর্রা তাদের অনুভূতি এবং সফলতার গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি চাকুরী হতে অব্যাহতি সংক্রান্ত সৃষ্ট সমস্যার বিষয়াবলী তুলে ধরেন; যা কনস্যুলেট কর্তৃক সমাধানের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়। কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর কমীর্দের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় পূর্বক কমীর্দের হংকং এর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া হুন্ডি বা অন্য কোন অবৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরণ না করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন। যে কোন প্রয়োজনে কনস্যুলেটের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে কনস্যুলেটকে জানানোর আহবান জানান তিনি।

আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনায় বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা কমীর্দেরকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত করেন। এছাড়া প্রবাস পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এঁর নেতৃত্বে¡ প্রবাসীদের জন্য বিমান বন্দরে স্থাপিত প্রবাসী লাউঞ্জসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বিষয়েও কমীর্দের অবহিত করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কমীর্দের অংশগ্রহণে বিনোদনমূলক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ এবং রাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিরতিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দুপুরের খাবার ও বিকেলের উন্নত মানের নাস্তার আয়োজন করা হয়। প্রবাস জীবনে ঈদ পরবতীর্ পুনর্মিলনী ও চিত্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের সুযোগ করে দেওয়ায় এবং এ ধরনের আন্তরিক ও আনন্দঘণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কমীর্রা বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *