কংগ্রেসকে ভাঙতে পারেনি বিজেপি, দলীয় নেতাদের সামনে রাহুলের দৃঢ় বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে ভাঙতে বিজেপি সফল হয়নি বলে দাবি করেছেন দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেসের কিছু নেতা বিজেপিতে যোগ দিলেও অন্য অনেক আঞ্চলিক দলের মতো কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন ধরাতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল।

এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়েছে যে বিজেপি ও তার আদর্শিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াই করার সক্ষমতা এখনো কংগ্রেসেরই রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।

বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন রাজ্যের সভাপতি এবং শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রাহুল অভিযোগ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ভোটের পর এখন আসন দখলের রাজনীতি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে দুর্বল করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা হচ্ছে। এ বিষয়টিকে তারা শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। বৈঠকের পর দলের নেতারা জানান, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য একীভূত হওয়া বা ভবিষ্যতে জোট গঠনের প্রশ্নে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিরোধী দলগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। রাহুল গান্ধী এদিন দেশের অর্থনীতি নিয়েও কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

তার অভিযোগ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে তিনি ভোট ও আসন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও পুনরায় উত্থাপন করেন।

দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারা জানান, চলতি মাসের শেষ দিক থেকে কেন্দ্র সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রচার কর্মসূচি শুরু করবে কংগ্রেস। আগামী কয়েক মাস ধরে এই কর্মসূচি চলবে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে চলমান রাজনৈতিক জল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্রদের বক্তব্য, দুই দলের মধ্যে একীভূত হওয়া নিয়ে যে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এমন কোনো প্রস্তাব কোনো পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, যারা বিজেপি ও তার সহযোগী শক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে চান এবং কংগ্রেসের আদর্শে আস্থা রাখেন, তাদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছে কংগ্রেস। একদিকে সংগঠন শক্তিশালী করা, অন্যদিকে বিরোধী ভোটকে একত্রিত রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে দলটিকে। সেই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য দলীয় কর্মী ও নেতাদের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শক্তির অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আর সেই কারণেই নিজেদের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *