ছিনিয়ে নেয়ার ৩ দিন পর চরমপন্থী নাসিম গ্রেফতার

খুলনা প্রতিনিধি
পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে গত ২০ জুন নাসিমুল গণি ওরফে নাসিমকে ছিনিয়ে নেওয়ার তিন দিনের মাথায় রোববার ভোরে খুলনার খালিশপুর মুজ্গুনী পার্ক এলাকার একটি চারতলা ভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। নাসিমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, নাসিম দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আ. গফুরের পুত্র। গণেশ হত্যা মামলায় তাকে ৩২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০ জুন পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন।

পুলিশ জানায়, নাসিমের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া, দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা, বাগেরহাটের ফকিরহাট, হরিণটানা সহ বিভিন্ন থানায় খুলনার আলোচিত গণেশ হত্যা, হুজি শহীদ, মুন্না, ইকবাল হুজুর, ফকিরহাটের জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি, অস্ত্র কেনাবেচাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছর এবং একটি হত্যা মামলায় ৩২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ রয়েছে। নাসিম ২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় আটক হওয়ার পর জামিনে ছিলেন। এছাড়া, ২০২২ সালের ৬ অক্টোবর খুলনার বিএল কলেজ গেটে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদের হত্যাচেষ্টা মামলারও তিনি আসামি। গত বুধবার সন্ধ্যায় দিঘলিয়া থানার একটি টিম ওসি তদন্ত ও সেকেন্ড অফিসার এসআই তারেকের নেতৃত্বে নাসিমকে গ্রেফতার করতে গেলে তার অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

এই ঘটনায় পুলিশের তিনজন সদস্য সামান্য আহত হন। এরপর দিঘলিয়া থানা পুলিশ ও যৌথ বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করলেও নাসিমকে আটক করতে পারেনি। তবে, তার বাহিনীর দুই সদস্য রেজাউল ও আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি এইচ এম শাহীন জানান, নাসিমকে আটক করতে গেলে তার বাহিনী পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৯ জুন মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে নাসিমসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫—৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রেজাউল ও আলামিনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত খুলনার খালিশপুর মুজ্গুনী এলাকার একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়ায় রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চরমপন্থী নেতা নাসিম গত দুই বছর আগে এলাকায় ফিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুস সালাম মুর্শিদী ও শেখ পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। এছাড়াও তিনি দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *