রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী শহরের বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা।
চালের পাশাপাশি সবজির দামও বেড়েছে বৃষ্টির অজুহাতে। যদিও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট, জিরাশাইল ও কাটারিভোগ চালের দাম বেশ বেড়েছে। মোটা চাল (বিআর-২৮/পারিজা) এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮–৬২ টাকা কেজিতে, জিরাশাইল ৭৪–৭৮ টাকা, মিনিকেট ৭৬–৮০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০–৭৫ টাকা কেজিতে।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো মৌসুমের ধান সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং মিল মালিকদের একচেটিয়া মূল্যনির্ধারণের প্রভাবে দাম বেড়েছে। মোকাম ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
চাল বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, প্রতি সপ্তাহেই পাইকারি দামের পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষ করে ভালো মানের ও মাঝারি চালের চাহিদা বেশি হওয়ায় সেগুলোর দাম বেশি বাড়ছে।
ক্রেতা মুজাহিদ বলেন, “চালের দাম বাড়লেও আমাদের কিছু করার নেই। প্রতিদিনের খাবারে চাল অনিবার্য। সবজির দাম বাড়লেও মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু চাল না কিনে উপায় নেই।”
এদিকে, বৃষ্টির কারণে সবজির বাজারেও দেখা দিয়েছে চড়া দাম।
বেগুন ৪০–৫০ টাকা, করলা ৫০, গাজর ৬০, কাঁচামরিচ ৫০–১০০, লাউ প্রতিটি ২০–৩০ টাকা, টমেটো ১০০, আলু ২৫, দেশি পেঁয়াজ ৫৫–৬০, রসুন ১৮০ এবং আদা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আলমগীর হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে চাষিরা ফসল তুলতে পারছেন না। সরবরাহ কম হওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে গেছে।
তবে মাংস ও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৫০–১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০–২৬০, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ এবং খাসির মাংস ১০৫০–১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি রুই মাছ ৩০০–৩৫০, কাতলা ২০০–৪৫০ এবং চিংড়ি ৭০০–৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা নাদিম হাসান বলেন, “ঈদের পর থেকেই সবজির দাম এমনিতেই বাড়তি ছিল। এখন আবার বৃষ্টির অজুহাতে দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু করার নেই, বেশি দাম হলেও কিনতেই হচ্ছে।”
চালের মূল্যবৃদ্ধি যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল চাহিদায় সরাসরি আঘাত হেনেছে, সেখানে সবজির দামও বাড়তি হওয়ায় সাধারণ মানুষ বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে, মূল্যবৃদ্ধির এই ধারা চলতে থাকলে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।















Leave a Reply