আত্রাইয়ে চিকিৎসায় অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার হাসপাতালের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা মুন্না আহম্মেদ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আত্রাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দাবি, সময়মতো চিকিৎসা, অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পেলে শিশুটিকে বাঁচানো যেত। ভুক্তভোগী মুন্না আহম্মেদ নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার পাড়েরা গ্রামের মোস্তফা আলীর ছেলে। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়সাওতা গ্রামের আব্দুল মমেন সরদারের মেয়ে মুন্নি খাতুনকে বিয়ে করেন। গর্ভাবস্থায় স্ত্রী মুন্নির চিকিৎসার জন্য গত ১৩ জুন আত্রাই সদরের সেভেন স্টার হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই দায়িত্বহীন আচরণ করেন। প্রসবকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে সিজার করানো হয়। কিন্তু ডেলিভারির কিছুক্ষণ পরই নবজাতক ও মা দুজনেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু যখন মুন্না আহম্মেদ অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা চেয়ে হাসপাতালের কাছে সহযোগিতা চান, তখন কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখায়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজ খরচে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে নবজাতককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। মুন্না আহম্মেদ বলেন, “সময়ের মধ্যে অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স পেলে আমার সন্তান বেঁচে যেত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু অবহেলাই করেনি, আমার অভিযোগ জানাতেও তারা অশোভন আচরণ করেছে।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেভেন স্টার হাসপাতালের পরিচালক এহসানুল হক। তিনি দাবি করেন, “হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। ডেলিভারির পর শিশুটি অসুস্থ হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পথে যাওয়ার সময় শিশুটি মারা যায়, এর দায় হাসপাতালের নয়।” এ বিষয়ে আত্রাই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাওছার আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্রাই অঞ্চলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। নবজাতকের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর প্রশ্ন উঠছে—গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বেসরকারি হাসপাতালের দায়হীনতার প্রশ্নে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *