জোয়ার্দ্দার ফারুক হোসেন: কর্মীদের আস্থার ঠিকানা

তালা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
তালা উপজেলার রাজনীতিতে একটি নাম বারবার উচ্চারিত হয়—জোয়ার্দ্দার ফারুক হোসেন। দলের কর্মীরা বলেন, “কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে আসেন ফারুক ভাই।” ২০০১ সাল। তালা সরকারি কলেজে ছাত্র রাজনীতির উত্তাল সময়। সেসময় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক হোসেন। তরুণ বয়সেই তিনি বুঝতে শিখেছিলেন—রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই দায়িত্ববোধই তাকে আজকের জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। প্রবাসে থেকেও ভোলেননি দলকে: পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে ফারুক পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। কিন্তু দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। বিএনপির একটি ইউনিটের সভাপতি হয়ে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন, এলাকার মানুষকে একত্র করেন। তার নিজ এলাকায় কেউ মামলা-মোকদ্দমা কিংবা বিপদে পড়লে ফারুক নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতেন। প্রোগ্রাম কিংবা সংগঠনের প্রয়োজনে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন নিরবে।
এলাকায় ফিরে সেবার পথচলা: প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দেশ্য একটাই—এলাকার সাধারণ মানুষ যেন সহজে চিকিৎসা সেবা পায়। বিশেষ করে গরিব মানুষ এবং দলের কর্মীরা যেন সুলভে চিকিৎসা নিতে পারে। এলাকার অনেকে বলেন, “ফারুক ভাইয়ের ক্লিনিকে গিয়ে আমরা অন্য জায়গার চেয়ে কম খরচে চিকিৎসা পাই, তাই গরিব মানুষ উপকৃত হয়।”
যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, তখন তিনি সাহস যোগাতেন কর্মীদের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তালা প্রেসক্লাব নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হলে সাংবাদিকরা তার সততা ও আন্তরিকতা দেখে তাকে সদস্য করেন। পরে তাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় জোয়ার্দ্দার ফারুক হোসেন প্রমাণ করেছেন—দল কেবল মিটিং-মিছিল নয়, এটি পরিবারও বটে। কর্মীদের বিপদে তিনি যেমন পাশে ছিলেন, তেমনি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার ঠিকানা।
একজন রাজনৈতিক কর্মী নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে ফারুক হোসেনের মূল শক্তি—মানুষকে ভালোবাসা আর তাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *