‘সংকটে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীক্ষা দিতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ -উপাচার্য ড. মশিউর রহমান

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

সংকটে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীক্ষা দিতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই আদর্শ মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠস্থান। নটর ডেম কলেজ সেই শ্রেষ্ঠ কাজগুলোই করে যাচ্ছে। আজ ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজের ৭৫ বছর
পূর্তি উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য ড. মশিউর রহমান। তিনি এই কলেজেরই একজন কৃতী নটরডেমিয়ান।
দেশের প্রথিতযশা সমাজবিজ্ঞানী ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘নটর ডেম কলেজ এমন একটি প্রাঙ্গণ যেখানে আসলে স্মৃতিতে এমন কিছু ভেসে ওঠে যেখানে শৃঙ্খলা শেখায়, ভালোবাসা শেখায়, বন্ধুত্ব শেখায়, দেশপ্রেম শেখায়। শেখায় প্রকৃতি এবং জীবনকে ভালোবাসা। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতির নাম, একটি আদর্শের নাম। সংকটে সিদ্ধান্ত নেয়ার শক্তির নাম।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কৃতী এই নটরডেমিয়ান বলেন, ‘তোমরা যারা এখানে লেখাপড়া করছ-নটর ডেমে পড়া মানে একটি আত্মবিশ্বাস। নটর ডেমে পড়া মানে আগামী দিনে তুমি পৃথিবী জয় করবে। এটি সেই স্বপ্নের অপূর্ব ক্ষেত্র। এখানে পড়া মানে প্রিয় বাবা-মা, ভাই-বোনকে ভালোবাসা। শ্রদ্বেয় শিক্ষকের ভালোবাসা কেমন করে পেতে হয় সেই ভালোবাসা শেখার অপূর্ব ক্ষেত্র এই প্রিয় পাদপীঠ। তোমাদের জন্য আমার শুভ-কামনা- আগামী দিনে তুমি বাংলাদেশ জয় করবে, পৃথিবী জয় করবে। সংকটে মহীরূহ হয়ে দাঁড়াবে। আগামীতে তুমি যেখানেই দেখবে সংকট সেখানে সবল পুরুষ হয়ে তোমার শক্তিমত্ত্বা, বুদ্ধিমত্ত্বা
এবং সৃজনশীলতা দিয়ে পৃথিবীকে আলিঙ্গন করে অপূর্ব করে গড়ে তুলবে। পৃথিবীজুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের আলো ছড়িয়ে দেবে।’
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরুতেই ছিল জাতীয় সংগীত। প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে সম্মিলিত স্বরে গেয়ে ওঠে জাতীয় সংগীত; জাতীয় পতাকা ও কলেজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপরে মঞ্চে পরিবেশিত হয় উদ্বোধনী-নৃত্য। আয়োজনের বক্তৃতা পর্বে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, সিএসসি। তিনি তার বক্তৃতায় উপস্থিত অতিথিবর্গকে ধন্যবাদ জানান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে
নটর ডেম কলেজের বিভিন্ন কার্যক্রম ও তার উদ্দেশ্যকে তুলে ধরেন। অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও বলেন, ‘৭৫ বছরের ইতিহাসের পরিক্রমায় নটর ডেম কলেজের একটি বড় অর্জন মানবিক মূল্যবোধ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সিডর, আইলা, ভূমিকম্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নটর ডেম কলেজ ভূমিকা রাখতে পেরেছে। একাজে ছাত্ররাও
আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে।’ ছাত্রদের সম্মান, ক্ষমা ও সেবার মানসিকতা ধারণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ। এরপরে বক্তব্য রাখেন হলিক্রস উপাসকমণ্ডলীর সুপিরিয়র জেনারেল ব্রাদার পল ব্যানার্জিক, সিএসসি। তিনি তার বক্তৃতায় নটর ডেম কলেজের ৭৫ বছরের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করেন। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন আর্চবিশপ বিজয় এন ডি ক্রুজ। উৎসবের প্রথম দিনে উৎসব-বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ড. আতিউর রহমান তার অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের শিক্ষা-ভাবনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে শিক্ষা-কার্যক্রমে নটর ডেম কলেজের অবদানকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তক ও নৈতিকতাকে এক সুতায় গেঁথে শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। জীবনঘন, মানবিক ও
অন্তর্ভুক্তিমূলক আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, উদারনৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উৎসবের প্রথম দিনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাপস্টলিক নুনসিও (ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে পোপ মহোদয়ের
প্রতিনিধি) সম্মাননীয় আর্চবিশপ কেভিন রানডাল। বক্তৃতা পর্বের পরে স্মারক-সম্মাননা তুলে দেয়া হয় বিশিষ্ট অ্যালামনাইদের
হাতে, যারা বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমান, বর্ষীয়ান আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক শাইখ সিরাজসহ বিশিষ্টজনেরা। উৎসব-স্মারক উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে, যারা নানাভাবে নটর ডেম কলেজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে। ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা’র অন্তর্ভুক্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরও উৎসব-স্মারক উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। একই মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ৭৫ বছর
পূর্তি স্মরণিকা-প্রন্থ ‘সোনার তরী’র। এরপরে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্ব, তাতে অংশ নিয়েছে ঢাকা বিভাগের ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সবশেষে ছিল কৃতী নটরডেমিয়ান, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসানের পরিবেশনা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *