যেকোনো উপায়ে ইউরেনিয়াম নেবে ট্রাম্প, তেহরানের জবাব— ‘অসম্ভব’

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো উপায়ে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অধিগ্রহণ করবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে এই হস্তান্তর আরও হতে পারে।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান সব কিছুতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য যৌথভাবে কাজ করা।

সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কি মার্কিন সেনাবাহিনী লাগবে? উত্তরে তিনি বলেন, কোনো সেনা লাগবে না। ট্রাম্প বলেন, তারা সরাসরি গিয়ে বিষয়টি সমাধান করবে এবং যা প্রয়োজন তা নিয়ে আসবে। তার দাবি, এর মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যাবে, আর চুক্তি হলে কোনো ধরনের যুদ্ধের দরকার হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ পেয়ে যাবে।

অর্থাৎ ট্রাম্প দাবি করেছেন, তারা এই প্রক্রিয়ায় যা পাওয়া যাবে তা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নেবে, তবে এ ধরনের কাজ কিছুটা বিপজ্জনক হতে পারে।

ট্রাম্প ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদকে বোঝাতে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, কিন্তু পারমাণবিক শক্তি শিল্পে এটি একটি পরিচিত পরিভাষা নয়।ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভুল তথ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। এটিকে তিনি অসম্ভব প্রস্তাব বলেও উল্লেখ করেন। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতেও রাজি নয়, ট্রাম্পের এই দাবিও সঠিক নয়। ইরান কখনোই আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কোনো বিশেষ শর্ত মেনে নেবে না।

তার মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে এখনো সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়গুলো রয়ে গেছে।ইউরেনিয়াম ‘হস্তান্তর করা হবে না’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ‘কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় আলোচনায় কখনোই ওঠেনি। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম পাঠানোর প্রশ্নই আসে না।

বাকাই এসব মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা মূলত সংঘাত কমানো ও যুদ্ধ বন্ধের ওপর ছিল, ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে নয়।

তিনি আরো জানান, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি বা নৌপথ নিয়ে অবরোধের জবাব ইরান দিতে প্রস্তুত। তাদের মতে, নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি। তবে ২০২৫ সালের জুনের পর থেকে এসব মজুদের সঠিক অবস্থা অজানা, কারণ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো সেগুলো পরিদর্শন করতে পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *