ভোটের খবর সংগ্রহ নিয়ে ইসির নীতিমালা স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক : কাদের গনি

অনলাইন ডেস্কঃ

ভোটের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রণীত নীতিমালা স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি মনে করি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই আদেশটি একেবারে সাংঘর্ষিক। এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ‘নির্বাচন কমিশন প্রণীত সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা-২০২৫’ শীর্ষক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে সাংবাদিকদের ভোটকক্ষে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। যদি অবহিত করে প্রবেশ করতে হয় তাহলে আমাকে কেন নির্বাচনী কার্ড দিচ্ছে ইসি? আবার প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজেই যদি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে কি তিনি অনুমতি দেবেন? আবার শত শত মিডিয়ার অনুমতির জন্য কথা বলতে গেলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তার কাজ কিভাবে করবেন? কাজেই এই নীতিমালা কোনো অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত নয়।

ভোটকক্ষে সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট সময়ের উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট নীতিমালার বিষয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন সাংবাদিক ১০ মিনিটের বেশি কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না।

আমার প্রশ্ন হলো ১০ মিনিট কেন? ওখানে যদি কারচুপি হয়, সাংবাদিকরা গেলেন, ১০ মিনিট কারচুপিটা বন্ধ থাকল। ১০ মিনিট কারচুপিটা হলো না। সাংবাদিকরা চলে আসার পর আবার যে কারচুপি হবে না, এর গ্যারান্টি কী? তাহলে সঠিক তথ্য জাতি কিভাবে জানবে, নির্বাচন কমিশন কিভাবে জানবে?বিএফইউজে মহাসচিব আরো বলেন, যে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে, এতে মূর্তির মতো সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। ভোটকক্ষের বাইরের দিকে কিছু দেখবেন, আর ভেতরে কী হচ্ছে, এটার জন্য মূর্তির মতো শুধু আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন!

তিনি বলেন, আমরা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার জন্য সাংবাদিকতা করতে আসিনি।

আশা করছি নির্বাচন কমিশন একটা সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার, সত্য তুলে ধরার জন্য সর্বদা সহযোগিতা করবেন।ইসির প্রতি কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক, তারা সরাসরি ভোটকক্ষে কারোরই কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, কারো অনুমতি নিতে হবে না—এই বিধান করতে হবে। এক্ষেত্রে গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না। তবে গোপন কক্ষে কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তির ভোটদানের ফটো তোলা, ভিডিও ধারণ করার জন্য একসঙ্গে একাধিক সাংবাদিক প্রবেশের বিধান থাকতে হবে।

তবে ভোট গণনার ফটো ও ভিডিও নিতে পারলেও সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। কেবল অনিয়ম হলে সম্প্রচার করতে পারবেন, এমন বিধান করতে হবে।একই সঙ্গে তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদেরই কেবল সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাংবাদিক কার্ড দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরেন।

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহযোগিতায় সভাটি আয়োজন করে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক রাজার সভাপতিত্বে ও বিজেসি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসচিব ও আরটিভি’র হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, আরএফইডি সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন (জেবেল), সাধারণ সম্পাদক গোলামী রাব্বানীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা, অথচ গণমাধ্যমের সঙ্গে বসা হচ্ছে না—এটা হতে পারে না। সাংবাদিকরা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক। তাহলে তাদের সঙ্গে কেন বসা হচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *