প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উ. কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে সতর্ক করার কয়েক দিনের মধ্যেই শনিবার জাপান সাগরের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)।

জেসিএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সিউলের সামরিক বাহিনী বিকাল ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা প্রায় দশটি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।’ জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে কিন্তু শীর্ষ সম্মেলন, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আবার শুরু করতে জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। লক্ষ্য হলো এ বছর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক করা, যা ট্রাম্পের এপ্রিলে বেইজিং সফরের সময় হতে পারে।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সিউলের কিম মিন-সিওক জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে বলেছেন কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক ‘ভালো’ হবে এবং মার্চের শেষের দিকে শুরু হওয়া ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় এই বৈঠকটি হতে পারে।

এর আগে অক্টোবরে এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। তবে সে সময় উত্তর কোরিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

কয়েক মাস ধরে এসব প্রস্তাব উপেক্ষা করার পর সম্প্রতি কিম জং উন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অবস্থান মেনে নেয়, তাহলে দুই দেশ একসঙ্গে থাকতে পারে।এদিকে পিয়ংইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক বরফ গলানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা উল্টো সিউলের শান্তি উদ্যোগকে ‘প্রতারণামূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

গত মাসে পিয়ংইয়ংয়ের নেতা কিম জং উন বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শত্রু রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং আমরা স্থায়ীভাবে দক্ষিণ কোরিয়াকে একই জাতির অংশ হিসেবে আর বিবেচনা করব না।’ এদিকে সিউল ও ওয়াশিংটন সোমবার তাদের বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করেছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরিয়ান সেনা অংশ নিচ্ছে এবং মহড়াটি ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

এই সপ্তাহের শুরুতে কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, এই যৌথ মহড়া ‘অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, মহড়াগুলো এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু হচ্ছে।

তার মতে, ‘আন্তর্জাতিক দুর্বৃত্তদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই’ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে পিয়ংইয়ং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে অবৈধ ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুর্বৃত্তসুলভ’ আচরণের প্রমাণ।

 

সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *