পৃথিবীর কোনো দেশে গণভোট ব্যর্থ হয়নি, বাংলাদেশেও ব্যর্থ হবে না

অনলাইন ডেস্ক

জাপানের নাগোয়া শহরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন জাপানের নাগোয়া শাখা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ সময় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে গণভোট ব্যর্থ হয়েছে।

সুতরাং বাংলাদেশেও গণভোট ব্যর্থ হবে না। দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়ে নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা।” বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সব আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে সংবর্ধনা দিয়ে আসলে বাংলাদেশকেই সম্মানিত করেছেন। প্রবাসে থেকেও আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আবার ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এ জন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

জাপানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। জাপানের আদলে একটি নৈতিক, শিক্ষিত এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী রাষ্ট্র গড়তে তিনি কাজ করে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘শুধু জাপান নয়, বিশ্বের সব বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ অব্যাহত রাখব। বাংলাদেশ একদিন একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে, যেদিন দেশে কোনো গুম-খুন থাকবে না, থাকবে না দারিদ্র্য কিংবা দুর্নীতি।

’ এ জন্য তিনি তরুণ সমাজকে কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবন্দি ৩৯ জন প্রবাসীর মুক্তির বিষয়ে তিনি প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের অন্য দাবিদাওয়া নিয়েও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

দেশে চাঁদাবাজি ও বাজার সিন্ডিকেটে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জাতির এই দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে সব ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং আল্লাহর দ্বীন মেনে চলা অপরিহার্য। একটি সমাজে যত দিন আল্লাহর ভয় প্রতিষ্ঠিত না হবে, তত দিন দেশের গুম, খুন ও দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে না।’

তিনি সবাইকে দেশের জন্য দোয়া করতে বলেন এবং বিরোধী দলের যেকোনো ভুল নির্দ্বিধায় ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার জন্য বিরোধী দল হিসেবে যা যা করা দরকার, তার সব কিছুই তিনি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, ‘৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটের যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতেই হবে। প্রয়োজনে জান দেবেন, কিন্তু শহীদ ওসমান হাদিসহ হাজারো শহীদের জুলাইকে বৃথা যেতে দেবেন না। গণভোটের একটি দাঁড়ি-কমাও ছাড় দেওয়া হবে না। ক্ষমতাসীনরা যদি জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে, তাহলে তাদেরও রাজপথে মোকাবেলা করা হবে।’ তিনি ঘোষণা করেন, হয় জন্মভূমি, নয়তো মৃত্যু। জুলাইয়ের মতো আবারও সব প্রবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাপানের নাগোয়া শহরসহ বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়। নাগরিক সংবর্ধনার পাশাপাশি ইসলামিক মিশন জাপানের উদ্যোগে একটি পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়- যেখানে সব শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া উপস্থিত শিশুদের জন্য ছিল ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *