পাটগ্রামে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছিল অবৈধ বালু উত্তোলন

‎
মেহেরুবান হাবিব

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
‎
‎লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক-এর নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ৭টি ট্রলি জব্দ করে পুলিশ।
‎একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন : ১) মো: দুলাল হোসেন (পিতা: আমিনুর), সোহাগপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ২) সামিম হোসেন (পিতা: জামিনুর রহমান), সোহাগপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ৩) মো: বাধন হোসেন (পিতা: রফিকুল), গ্রাম বেংকান্দা, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ৪) মো: হাসিব হোসেন (পিতা: হাসান আলী), ধবলসুতী মাষানটারি এলাকা
‎৫) আজম হোসেন (পিতা: রফিকুল ইসলাম), গ্রাম শ্রীরামপুর ইসলামপুর পাকার মাথা, ২ নম্বর ওয়ার্ড।
‎
‎রাতের আঁধারে নদী-ফসলি জমি থেকে বালু লুট : স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে নদী তীর, ফসলি জমি ও খাস জমি থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে এবং এলাকার রাস্তা-ঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‎পুলিশের কঠোর বার্তা : এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, পাটগ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। কোনোভাবেই আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া হবে না। এই বিশেষ অভিযানে ৭টি ট্রলি জব্দসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
‎মূল হোতারা এখনও আড়ালে : তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আটক ব্যক্তিরা মূলত মাঠপর্যায়ের লোক। অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে থাকা প্রভাবশালী হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা এই চক্রের গডফাদারদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
‎পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি : পরিবেশবিদ ও এলাকাবাসীর মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে পাটগ্রামের পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তারা নিয়মিত টহল, কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *