পাটগ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছেই: ধরা পড়ছে খুচরা পরিবহনকারী

মেহেরুবান হাবিব

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

পাটগ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও মূল বালু সিন্ডিকেট এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে -এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। সাম্প্রতিক তিন দিনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই বালু বাণিজ্যের নেপথ্যের মূল হোতারা কারা?

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের দায়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মো: লাবিব হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই অভিযোগে ১৫ জানুয়ারি মো: আজিজুলকে আরও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

‎সবচেয়ে বড় অভিযানটি পরিচালিত হয় ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। এদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মো: মনিরুজ্জামান মিলনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: তানভীর হোসেন।

‎স্থানীয়দের দাবি, জরিমানা পাওয়া ব্যক্তিরা মূলত বালু পরিবহনের সঙ্গে জড়িত খুচরা পর্যায়ের লোক। অথচ যাদের নির্দেশে নদী বা চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে, যারা ট্রাক ও ভেকু নিয়ন্ত্রণ করছে-তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্ট থেকে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন হলেও আগাম খবর পেয়ে বড় ব্যবসায়ীরা সরে যায়। ফলে অভিযানে ধরা পড়ে ছোট চালক বা শ্রমিকরা।

‎পরিবেশবাদীদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে ভাঙন, ঝুঁকিতে পড়ছে কৃষিজমি ও বসতভিটা। শুধু অর্থদণ্ড নয়, স্থায়ী সমাধানের জন্য সিন্ডিকেটভিত্তিক বালু বাণিজ্যের শেকড় পর্যন্ত পৌঁছানো জরুরি।

‎এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

‎

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *