গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক তুহিনের জানাজায় মানুষের ঢল

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার  নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন এর জানাজা চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ মাঠে  অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা বৃষ্টি উপেক্ষা করে সর্বস্তরের সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাযায় ইমামতি করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্মসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

‎গতকাল রাত ৮ টার সময় গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি মারাধরের ভিডিও চিত্র ধারণ করায় তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যপুরি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতর ভাই সেলিম বাদি হয়ে বাসন থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎নিহত সাংবাদিক তুহিন ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্বপরিবারে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

‎গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

‎গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি মার্কেটের ভেতর প্রকাশ্যে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে  হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

‎কুপিয়ে হত্যার আগে তুহিন চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিচে নামতেই দেখেন কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার সামনে দিয়ে টাঙ্গাইল মহাসড়কের দিকে যাচ্ছিলো, এসময় সাংবাদিক তুহিন তাদের পিছু নেয়, শাপলা ম্যানশনের সামনে যায় সন্ত্রাসীরা, একজন নারীকে আক্রমণ করে বাদশা নামক একব্যক্তি,  সেই সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বাদশা কে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে, তখন সাংবাদিক তুহিন  ভিডিও করতে গেলে সন্ত্রাসীরা বাধা দেয় এবং ভিডিও ডিলিট করতে বলেন।  ভিডিও ডিলিট করতে রাজি ছিলেন না সাংবাদিক তুহিন, সেখান থেকে চলে আসেন এবং মসজিদ মার্কেটে একটি চা দোকানে প্রবেশ করেন।  সন্ত্রাসীরা চা দোকানে ঢুকেন ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে  তাকে কোপাতে গেলে চা দোকানদার বাধা দেয়, সন্ত্রাসীরা দোকানদারকে গালাগালি করে ধমক দিলে সে চুপ করে বসে পরে, এই সময় সন্ত্রাসীরা তুহিনকে টেনে বের করে  কুপিয়ে হত্যা করে দ্রুত চলে যায়।  পরে  খবর পেয়ে বাসন থানা  পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় তুহিন মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে দ্রুতগতিতে এসে তুহিনকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাঁকে কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। কিন্তু ভয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *