আইনগত সহায়তা পাওয়া দরিদ্র-অসচ্ছল-অসহায়দের অধিকার : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সমাজের দরিদ্র-অসচ্ছল-অসহায় মানুষকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সামাজিক সমতা জড়িত। তাদের আইনগত সহায়তা কোনোভাবেই করুণা নয়। এই সহায়তা পাওয়া তাঁদের অধিকার।আজ রবিবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

 আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মূল উদ্দেশ্য- দরিদ্র অসহায় মানুষকে আইনগত সহায়তার মাধ্যমে তাদের ন্যায়বিচার দেওয়া। এই কার্যক্রমকে আরো সফল ও বেগবান করে তুলতে হলে সেবাটিকে জনগণের দোরগোড়ায় অর্থাৎ যারা আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তাদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আর তা করতে হলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের লিগ্যাল এইড কমিটিকে আরো কার্যকর করতে হবে। কারাগারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
’আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত ও কার্যকর আইনিসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।’মামলাজট নিরসনে সঠিক মামলা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির (এডিআর) গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জার্মান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা- জিআইজেড এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশের ৮৭ ভাগ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী। আর ৩০ ভাগ বিরোধ স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তিযোগ্য। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির হার অতি নগণ্য। এর মূল কারণ সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের ব্যস্ততা এবং মধ্যস্থতাকারীর প্রতি আস্থার অভাব।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত ১৫ বছরে ১০ লক্ষ ২২ হাজার ৯৫৮ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময়কালে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে, ১৮৭ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৬৮৭ টাকা আদায় করা হয়েছে। আর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৩৫৯ জনকে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এক যুগে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৪৫ জন কারাবন্দিকে আইনি সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *