- এখনো হদিস নেই পুলিশের লুট হওয়া ১ হাজার ৪০৫ অস্ত্র, আড়াই লাখ গুলির
- সহস্রাধিক লাইসেন্স করা অস্ত্রও অপরাধীদের হাতে, খুনাখুনি-দস্যুতায় থমথমে দেশ
নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে অপরাধজগৎ। তৎপর হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর সন্ত্রাসী এবং তাদের সহযোগীরা। সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ অস্ত্রে সারা দেশে বেড়েছে রক্তের খেলা। এক বছরেও হদিস নেই পুলিশের লুট হওয়া ১ হাজার ৪০৫টি অস্ত্র ও আড়াই লাখ গুলির।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, দল এবং ব্যক্তি সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমন করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এখন কোনো কিছুই গোপন থাকে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ৫১ হাজার ৭৫৮টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৪৫টির। এগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করে জমা চায় সরকার। জমা পড়ে ৯ হাজার ১৯১টি অস্ত্র। জমা না পড়া ১ হাজার ৬৫৪টি অস্ত্র এখন অবৈধ।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় ভারী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা। শটগান হাতে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাত হোসেনের নাম জানতে পারে পুলিশ। ২১ জুন নরসিংদীর পলাশে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল কর্মী ইসমাইল হোসেনের মৃত্যু হয়। ১৫ জুন ঘোড়াশালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ১০ জন। ২০ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শিবুউ মারমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৩ আগস্ট কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাবেক ইউপি মেম্বার আলাউদ্দিনকে বাড়ির সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে প্রেমিকের হাতে খুন হন শাহিদা ইসলাম নামে এক নারী। ১৯ জুন রাজধানীর পল্টনে মাদক কারবারিদের ছোড়া গুলিতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। ১৮ জুন রাজধানীর মিরপুরে গুলি করে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর ২১ লাখ টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ৬ আগস্ট মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে গুলিতে মারা যান শাহেন শাহ নামের এক যুবক। গুলিবিদ্ধ হন শুভ নামের আরেক যুবক। ১৭ আগস্ট আবারও সংঘর্ষ হয়। চলে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। ৩০ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবার সংঘর্ষ হয়। ৪ সেপ্টেম্বর গুলিতে মারা যান অটোরিকশাচালক সাদ্দাম হোসেন সনু। ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি। এর মধ্যে চুয়া সেলিমের স্ত্রী নাগিন বেগম এবং ২৩ সেপ্টেম্বর চারকো ইরফান গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ সেপ্টেম্বর গুলিবিদ্ধ সাগর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে মারা যান। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন। ৩১ মে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিতে মারা যায় রাসেল নামের এক শিশু।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন










Leave a Reply