মাছির দুই ডানা নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:

আমাদের সমাজে পরিচিত ক্ষুদ্র প্রাণী মাছি। এটি এমন এক প্রাণী যাকে কমবেশি সবাই ঘৃণা করে, বিরক্তি বোধ করে। আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক সময় খাবারে মাছি বসে। এতে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করে গেছেন, যা আজ বর্তমান বিজ্ঞান অবলীলায় স্বীকার করে নিচ্ছে। এবং তা তারা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। ওবায়েদ ইবনে হুনায়েন (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে সেটাকে তাতে ডুবিয়ে দেবে। অতঃপর তাকে উঠিয়ে ফেলবে। কেননা তার এক ডানায় রোগ থাকে আর অন্য ডানায় থাকে রোগের প্রতিষেধক। (বুখারি, হাদিস : ৩৩২০)

অন্য বর্ণনায় (অতিরিক্ত শব্দ) এসেছে—আর মাছি খাবারে পতিত হওয়ার সময় ওই ডানা নিক্ষেপ করে, তাতে রোগ-জীবাণু থাকে। কাজেই তোমরা তাকে পাত্রের মধ্যে ডুবিয়ে দেবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৪৪)

ইবনুল কাইয়ুম জাওজি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, মাছির মধ্যে এক ধরনের বিষ আছে, দংশন করলে মানুষের শরীর ফুলে যায়। আর অন্য পাখার মাঝে বিষ নিবারণের উপাদান রয়েছে। তাই রাসুল (সা.) বলেছেন, পুরো মাছিকে এই পানিতে ডুবিয়ে দিতে। এতে করে (যদি সে পানি পান করে) তার আর ক্ষতি হবে না। অনেক সংশয়বাদী এই হাদিস নিয়ে অনেক ঠাট্টা-মশকরা করেছেন যে রাসুলের হাদিস অহেতুক হাস্যকর। অথচ বর্তমান বিজ্ঞানীরা মেনে নিয়েছেন কোনো ধরনের কথা ছাড়াই। (জাদুল মাআদ : ৪/১১১)

এই বিষয়ে মিসরের প্রাণী গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডক্টর মোস্তফা ইব্রাহিম হাসান হাদিসের বাস্তবতা প্রমাণ করার জন্য চার ধরনের মাছির মধ্যে এ নিয়ে জরিপ চালান। সেখানে তিনি দেখতে পান যে মাছির একটি ডানায় অনেক জীবাণু আছে আর অন্য ডানায় সেই জীবাণুনাশক আছে। (আল ইত্তেহাদ, আরাবি, অনলাইন)

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *