ডিসির বিরুদ্ধে নারী হত্যার হুমকি

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া আপত্তিকর ভিডিওতে থাকা নারী অভিযোগ করেছেন, তাকে বিয়ে না করে বরং হত্যার হুমকি দিচ্ছেন ডিসি ও তার ঘনিষ্ঠজনেরা। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ওই ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী নারী সেলিনা ইসলাম লিজা বলেন, “জেলা প্রশাসক আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমাকে আমার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে এবং পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এখন সে সব অস্বীকার করছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে সে এখন আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আবার আমার নামে মামলা দিয়ে ফাঁসানোরও ভয় দেখানো হচ্ছে।

যে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেগুলো জেলা প্রশাসক নিজেই তুলেছেন।” উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “শরীয়তপুরের ডিসি মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন এইসব ছবি ও ভিডিও নিজেই তোলেন। এক নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে হুমকি দিচ্ছেন।”

টেলিগ্রামে প্রকাশিত ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক নিজ কার্যালয়ে এক নারীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে মোবাইল ভিডিও কলে থাকার সময় তিনি ওই নারীকে অশ্লীলভাবে অঙ্গভঙ্গি করতেও দেখা যায়। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, “ডিসির কাছ থেকে এ ধরনের নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা কেউ প্রত্যাশা করে না। তার কর্মকাণ্ডে পুরো জেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুল আলম বলেন, “ডিসি স্যার ছুটিতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার অফিস শেষে তিনি ঢাকায় গেছেন। তিনি কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি।”
জানা গেছে, ২৭তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ক একটি সরকারি ট্রাস্টে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাঠকের স্বার্থে জানানো যাচ্ছে, ঘটনাটি সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সাধারণ জনগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *